বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
নামাজে দরুদ শরিফ পড়ার সঠিক নিয়ম ও ফজিলত
daily-fulki

নামাজে দরুদ শরিফ পড়ার সঠিক নিয়ম ও ফজিলত


স্টাফ রিপোর্টার : নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। এই ইবাদতের প্রতিটি ধাপের রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান ও বিশেষ তাৎপর্য। নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠের পর দরুদ শরিফ পড়া সুন্নতে মুআক্কাদা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রকাশের অন্যতম উত্তম মাধ্যম।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত কাব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, একদিন সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনার ওপর আমরা কীভাবে দরুদ পাঠ করব?' জবাবে তিনি দরুদে ইবরাহিম শিক্ষা দেন।


দরুদে ইবরাহিম
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও বরকত নাজিল করুন, যেমনটি আপনি ইবরাহিম (আ.) ও তার পরিবারবর্গের ওপর নাজিল করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।


নামাজে দরুদ পড়ার বিধান
ফিকহবিদদের মতে, নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ শরিফ এবং পরে দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত। কোনো ব্যক্তি যদি ভুলবশত বা বিশেষ কারণে এটি ছেড়ে দেন, তাহলেও নামাজ সহিহ হবে এবং সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে না। তবে এর ফলে সওয়াব কিছুটা কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অভ্যাসবশত নিয়মিত দরুদ শরিফ ছেড়ে দেন, তাহলে তিনি সুন্নত ত্যাগের কারণে গুনাহগার হবেন। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৩)

কোরআন ও হাদিসে দরুদের গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তার ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করো।' ( সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৬)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন।'- সুনানে নাসাঈ

আরও বর্ণিত হয়েছে, দরুদ পাঠ দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে বান্দা নবীজি (সা.)-এর নৈকট্য লাভ করে।

দরুদে ইবরাহিমের বিশেষ ফজিলত

ইসলামি স্কলারদের মতে, দরুদে ইবরাহিমের বিশেষ সৌন্দর্য হলো—এতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নবুয়তের ধারাবাহিকতা প্রকাশ পেয়েছে। এ কারণেই এই দরুদকে সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন দরুদ বলা হয়।

দরুদ পাঠের ফজিলতের মধ্যে রয়েছে- গুনাহ মাফ হওয়া, দোয়া কবুল হওয়া, অন্তরের প্রশান্তি বৃদ্ধি, কিয়ামতের দিন শাফায়াত লাভের আশা। তাই নামাজের শেষ বৈঠকে দরুদ শরিফ যথাযথভাবে পাঠ করা প্রতিটি মুসল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
 

সর্বাধিক পঠিত