সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
কাউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
daily-fulki

কাউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন


স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের কাউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে আবারও আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণ, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।


বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এ সময় তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত নিশ্চিত করার দাবি জানায়।


শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেছেন এবং তাদের শরীরে অনাকাঙ্খিতভাবে স্পর্শ করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরে তারা।


শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা চললেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেনি। সম্প্রতি বিষয়গুলো সামনে আসায় তারা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের নির্বাহী আদেশে ২২ আগস্ট ২০২৪ ওই প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। 


তবে অভিযোগ রয়েছে, বরখাস্তের পরও তিনি পুনরায় পদে বহাল হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তদন্ত করে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাকে পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।


স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছে বিভিন্ন পক্ষ। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের নিয়ন্ত্রণও পরিবর্তিত হয়েছে। একেক সময় একেক রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর কর্তৃত্ব বিস্তার করেছেন।


এ ধারাবাহিকতায় একাধিকবার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রভাবের কারণেই বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, “অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে যদি অভিযুক্তকে পুনর্বহাল করা হয়, তাহলে তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হবে।”
তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

সর্বাধিক পঠিত