ফুলকি ডেস্ক : مَآ ءَامَنَتْ قَبْلَهُم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَـٰهَآۖ أَفَهُمْ يُؤْمِنُونَ
সরল অনুবাদ :
৬. এদের আগে যেসব জনপদ আমি ধ্বংস করেছি, সেখানকার অধিবাসীরা ঈমান আনেনি, তবে কি তারা ঈমান আনবে? (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত: ৬)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
মক্কার মুশফিকরা যখন একের পর এক মজিজা ও নিদর্শন দেখার দাবি করছিল, ঈমান আনছিল না, তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের দাবির বিপরীতে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। এ আয়াতে তিনটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য :
এক, পূর্ববর্তী রাসুলদের যে ধরনের নিদর্শন দেওয়া হয়েছিল, তোমরা তেমনি ধরনের নিদর্শন চাচ্ছ? কিন্তু তোমরা ভুলে যাচ্ছ হঠকারী লোকেরা সেসব নিদর্শন দেখেও ঈমান আনেনি।
দুই, তোমরা নিদর্শনের দাবি তো করছ; কিন্তু এ কথা মনে রাখছ না যে সুস্পষ্ট মুজিজা স্বচক্ষে দেখে নেওয়ার পরও যে জাতি ঈমান আনতে অস্বীকার করেছে তারা এরপর শুধু ধ্বংসই হয়ে গেছে।
তিন, তোমাদের চাহিদামতো নিদর্শনাবলি না পাঠানো তো তোমাদের প্রতি আল্লাহর একটি বিরাট মেহেরবাণী।
কারণ এ পর্যন্ত তোমরা আল্লাহর হুকুম শুধু অস্বীকারই করে আসছ; কিন্তু এ জন্য তোমাদের ওপর এখনো আজাব পাঠানো হয়নি।
এখন কি তোমরা নিদর্শন এ জন্য চাচ্ছ যে যেসব জাতি নিদর্শন দেখার পরও ঈমান আনেনি এবং এ জন্য তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তোমরাও তাদের মতো একই পরিণতির সম্মুখীন হতে চাও? তাদের পূর্বের লোকদের কাছে নিদর্শন পাঠানোর পরও তারা যখন ঈমান আনেনি, তাই তোমরাও আসলে ঈমান আনবে না। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যাদের বিরুদ্ধে আপনার রবের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না। যদিও তাদের কাছে সবগুলো নিদর্শন আসে, যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে।
’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯৬–৯৭]
এত কিছু বলা হলেও তারা রাসুল (সা.)-এর কাছে এমন নিদর্শন দেখেছে যা পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের কাছে থাকা নিদর্শন ও মুজেজা থেকে অনেক বেশি স্পষ্ট, অকাট্য ও শক্তিশালী, (কিন্তু তারপরও তারা ঈমান আনেনি)। (ইবনে কাসির, তাফসিরে জাকারিয়া)
আল্লাহ তায়ালা বলছেন, এর আগে আমি যত বসতি ধ্বংস করেছি তারা এমন ছিল না যে, তাদের ইচ্ছানুযায়ী মুজিজা দেখানোর পর তারা ঈমান এনেছে; বরং তারা মুজিজা দেখার পরও ঈমান আনেনি। যার কারণে ধ্বংসই ছিল তাদের পরিণতি। তাহলে কি মক্কাবাসীদের ইচ্ছানুসারে কোনো মুজিজা দেখানো হলে তারা কি ঈমান আনবে? কক্ষনো না; বরং তারা অবিশ্বাস ও বিরোধিতার পথেই অগ্রসর হতে থাকবে।
(তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. অবিশ্বাসের পরিণতি ভয়াবহ, অতীতের বহু জাতি ঈমান আনেনি, ফলে তারা আল্লাহর ক্রোধের সম্মুখীন হয়েছে।
২. ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি, কেননা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হতে পারে।
৩. অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণে বাধা দেয়, তাই অহংকার পরিহার করে সত্য গ্রহণ করা উচিত।
৪. আল্লাহর বিধান অনিবার্য হওয়ার আগ পর্যন্ত ঈমান আনার সুযোগ থাকে তারপর আর থাকে না।
৫. সত্য অস্বীকার করা মানুষের পুরনো প্রবণতা, তাই সত্যকে অস্বীকার না করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন গড়া উচিত।
