স্টাফ রিপোর্টার : উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ছাড়াই গতকাল বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জয়লাভ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে তিনি এই আসন ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।
অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল এই স্থগিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আসনে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
বগুড়া থেকে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেয়া বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বৃহস্পতিবার রাতে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ফজলুল করিম এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট।
নির্বাচনী ফলাফল বাদশার পক্ষে গেলেও সারা দিনের ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এমনকি এক জামায়াতকর্মীকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনাও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। বিকাল ৩টার পর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালটে সিল মেরে নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এসব অভিযোগ প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিক জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার মেলেনি।
পুরো নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে মাতলি নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে সকাল সাড়ে ৯ টাতেই ফলাফল শিটে (ফরম ১৬) আগাম স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নূর ইসলাম, যিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, তিনি কাজের চাপ কমানোর অজুহাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে আগেভাগেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখছিলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে বিতর্কিত ফরমগুলো জব্দ করে উপস্থিত সবার সামনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং ওই কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
অন্যদিকে, বড় জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিপ্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা জামায়াতের তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জামায়াত নিশ্চিত পরাজয় জেনে আগে থেকেই এসব কাল্পনিক অভিযোগের নাটক সাজিয়ে রেখেছিল। বাদশা আরও বলেন, বগুড়ার মানুষ এই ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়েছে এবং তার হাতকে শক্তিশালী করেছে। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি এলাকার উন্নয়নে এবং জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শেরপুর-৩
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ও ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনে বিএনপিপ্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন। এই আসনের ১২৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১১১ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৫৬৩ ভোট।
তবে এর আগে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। দলটির অভিযোগ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাল ভোট এবং প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযোগ দেয়া হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে দুপুর ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে বয়কটের ঘোষণা দেন মাসুদুর রহমান।
সকালে তাঁতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, তার সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের নানাভাবে কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও নেপথ্যে কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে রূপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রয়েছে। একটি পক্ষ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
