বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ইয়াবাসহ আটকের পর ১৫১ ধারায় মামলা, সহজেই জামিনে উধাও অভিযুক্ত
daily-fulki

ইয়াবাসহ আটকের পর ১৫১ ধারায় মামলা, সহজেই জামিনে উধাও অভিযুক্ত


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকুড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি এলাকায় ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ মাদক মামলার পরিবর্তে তাঁকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে গা ঢাকা দেন ওই ব্যক্তি।
মাদকসহ আটক ওই ব্যক্তির নাম আল মাবুদ (৩০)। তাঁর বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলার নাকালিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে। তিনি বরুন্ডি এলাকায় থেকে ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে মাদকের কারবার করতেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।


এদিকে মাদকসহ আটকের পরও আল মামুদকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর ঘটনা গতকাল মঙ্গলবার এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে পুলিশ মাদকের বিষয়টি আড়াল করে জামিনযোগ্য ধারায় তাঁকে আদালতে পাঠায়, যাতে তিনি দ্রুত জামিন পেতে পারেন।


স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বরুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ১ এপ্রিল বিকেলে মাদক কারবারের সময় বরুন্ডি হজরত কদম রসুল শাহ্ বোগদাদী (র.) মাজারের পশ্চিম পাশ থেকে আল মাবুদকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে চারটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি সাটুরিয়া থানায় জানানো হয়।

খবর পেয়ে থানার উপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইয়াবাসহ আল মাবুদকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এসআই আব্বাস উদ্দিন বলেন, ১ এপ্রিল আল মামুদকে আটক করা হলেও পরের দিন (২ এপ্রিল) তাঁকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালত-২-এ সোপর্দ করা হয়। ওই দিনই তিনি জামিনে বের হয়ে যান।

আদালতে সোপর্দ করে এসআই আব্বাস উদ্দিন লিখিতভাবে আদালতকে জানান, আল মাবুদ ১ এপ্রিল বরুন্ডি মাজারের পাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার কারণে লোকজন তাঁকে আটক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়ার বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বরুন্ডি বাজারের শুক্লা জুয়েলার্সের মালিক শীতল চন্দ্র সরকার বলেন, আল মাবুদ বরুন্ডি এলাকায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার করে আসছিলেন। মাদকসহ পুলিশে সোপর্দ করার পরেও তাঁকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তাঁরা বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

জানতে চাইলে সাটুরিয়া থানার এস আই আব্বাস উদ্দিন চারটি ইয়াবাসহ আল মাবুদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কেন তাঁকে মাদক মামলার পরিবর্তে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি।

এসআই আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘বরুন্ডি এলাকার লোকজন আল মাহমুদকে চারটি ইয়াবাসহ আটকের পর আমার কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু কেন তাঁকে মাদক মামলার পরিবর্তে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়, জানতে ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’

যোগাযোগ করা হলে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনে আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি।’

কিন্তু ওই কর্মকর্তা পরে আর ফোন করেননি এবং তাঁকে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে অন্য এক কর্মকর্তার মাধ্যমে তদবির করিয়েছেন যাতে নিউজটি ছাপা না হয়।

সর্বাধিক পঠিত