স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর লালবাগ থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১২টার মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন।
তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে লালবাগ থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নতুন মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এন এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে এদিন ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হবে।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ঢাকার আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি আত্মীয়র বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে রংপুরের স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর উত্তরা ও বনানী থানায় আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং ঢাকার যেকোনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত আজ ভোররাতে ধানমন্ডির সেই গোপন আস্তানা থেকেই তাকে আটক করতে সক্ষম হয় ডিবি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী রহস্যের অবসান ঘটল এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি হলো রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) হত্যা মামলা। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষের সময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে মুসলিম উদ্দিন নিহত হন। পরবর্তীতে আসামিদের চাপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল তার পরিবার। এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও আরও ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রংপুরের সেই হত্যা মামলা ছাড়াও সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় আরও অন্তত ৬টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে টানা চার মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
৫ আগস্ট সরকার পতনের রাতে তিনি সংসদ ভবনের একটি গোপন কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আজকের আদালতে তোলার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক এই শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীর গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
