স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের শুরু থেকেই টানা দরপতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির ৩০ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫১টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। দিনের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ৯ হাজার ৪৯৯ টাকা।
ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৯ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৫ দশমিক ০৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬১ দশমিক ০৭ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ২৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টির শেয়ারের দাম। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলোÑএকমি পেস্টিসাইড, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, ইন্টেক লিমিটেড, টেকনোড্রাগ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, খান ব্রাদার্স, এশিয়াটিক ল্যাব, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ফাইন ফুডস।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো-খান ব্রাদার্স, ইনটেক লিমিটেড, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইএসএন লিমিটেড, এপেক্স ট্যানারি, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্রাগন সুয়েটার এবং এশিয়াটিক ল্যাব।
অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলো-প্রাইম ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, বিআইএফসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, ফ্যামিলিটেক্স, রিসাইন এবং বে-লিজিং।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গতকাল ২০৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ১২৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।
সিএসইতে এদিন মোট ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীতিগত স্থিতিশীলতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে গুজবনির্ভর আচরণ-এসব কারণ মিলেই এই টানা পতনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। ফলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নয়, বরং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
