স্টাফ রিপোর্টার : কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. ইমান উল্লাহ প্রকাশ মাস্তানকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন কারাগার থেকে আসামি ইমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিফাত আহমেদ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
তিনি বলেন, ফ্যাক্টরির স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো কিছুতেই তিনি জড়িত না। ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যাসহ নানা রোগে তিনি ভুগছেন। অসুস্থ বিবেচনায় তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক।
আসামি ব্যবসায়ী হওয়ায় সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।
এর আগে রবিবার কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে আসামি ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কারখানা চালু রেখেছিলেন। যেখানে ছিল না কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা।
এ ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের দিয়ে গোপনে সেটি পরিচালনা করেন।
আবেদনে আরো বলা হয়, আসামি এই ঘটনার মূলহোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটি কার্যক্রম চলমান রাখেন। এই কারণে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রফিকুল ইসলাম আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদসহ তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে রহস্য উদঘাটন করা যাবে। সেই সঙ্গে তার সহযোগী এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তার করা যাবে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কেরাণীগঞ্জ থানা এলাকার কদমতলীতে মো. আকরাম উল্লাহ আকরামের মালিকানাধীন মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরীতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ছয়জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জুয়েল রানা বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ ৫/৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ইমান উল্লাহ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম ও তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি ইমান উল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামি মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম ও আহনাফ আকিফ আকরাম জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮-১০ বছর আগে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করে আসছে। যেখানে ৫০/৬০ জন শিশু, নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করতেন। একাধিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাক্টরি বন্ধ ও সিলগালা করলেও আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গোপনে চালু করা হতো।
