সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার
daily-fulki

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার


ফুলকি ডেস্ক : লিবিয়া উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে ১০৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। ইতালির কোস্টগার্ড এবং বেসরকারি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতায় ৩২ জনকে জীবিত এবং দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। লিবিয়ার তেলের খনি ‘বৌরি অয়েল ফিল্ড’ থেকে মাত্র ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইতালীয় এনজিও সংস্থা ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’ (এমএসএইচ) জানিয়েছে যে, ডুবে যাওয়া নৌকাটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।


জীবিত উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে তাদের কাঠের নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়।

জার্মান উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’-এর পাঠানো পর্যবেক্ষণ বিমানের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, সাগরে তলিয়ে যাওয়া নৌযানের নিচের অংশে প্রাণপণ আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী। উদ্ধারকৃতদের এবং উদ্ধার করা দুটি মরদেহ ইতিমধ্যে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ ৭০ জনের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।


নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ’ (এসএআর) জোনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটলেও মূলত ইতালীয় ও জার্মান সংস্থাগুলোই উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

একই সঙ্গে সংস্থাটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অকাল মৃত্যু ঠেকাতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে। বিপজ্জনক এই রুটটি ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

উল্লেখ্য, উন্নত জীবনের আশায় এশিয়া ও আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া বা তুরস্ক উপকূল থেকে ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ভূমধ্যসাগরকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরগুলোর তুলনায় এই মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমধ্যসাগরের বিশাল জলরাশিতে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো কাজ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, তবে প্রতিকূল পরিবেশ উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত