বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
হাসিনার আইনজীবী দলের চিঠির বিষয়ে যা বলছে ট্রাইব্যুনাল
daily-fulki

হাসিনার আইনজীবী দলের চিঠির বিষয়ে যা বলছে ট্রাইব্যুনাল

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আইন সেবাদানকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের চিঠি দেওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে জানতে পারার কথা বলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেছেন, “না, আমরা আমাদের কাছে তো বোধহয় এটা এরকম কিছু লেখে নাই বা আমরা জানি না। এটা আপনাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি যে, এরকম কি কিংসলে ন্যাপলে—এরকম কী একটা চিঠি তারা দিয়েছে।

“তো একটা কপি আপনাদের মাধ্যমে যেটা পেয়েছি, সেখানে লেখা আছে—ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাড্রেস করেছে। নিচে লিখছে, ডিয়ার আইসিটি। তো একটা অ্যাবস্ট্রাকটিভ...অ্যাবস্ট্রাক্ট পারসনকে ডিয়ার আইসিটি বলা, তারপরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল কী, অ্যাড্রেসটা কী, যদি এটা লন্ডনভিত্তিক কোনো ফার্ম হয়, তাহলে তো এই জাতীয় ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজ করার কথা না।”

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার তরফে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি ৩০ মার্চ ইমেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে এক চিঠি দিয়েছে, যাতে ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারকে অবৈধ বলা হয়েছে।

চিঠিদাতা প্রতিষ্ঠানের কোনো ওয়েবসাইটের অস্তিত্ব খুঁজে িপাওয়া যায়নি দাবি করে আমিনুল ইসলাম বলেন, “ট্রাইব্যুনালে যখন বিচার চলছে, অনেক শক্তিশালী মানুষের যখন বিচার চলছে, তখন এই জাতীয় কিংসলে, পিংসলে নানান, মানে প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার জন্যে, একটু জনগণকে এটার দৃষ্টিপাত করানোর জন্যে এইরকম কার্যক্রম এটা থাকতেই পারে।”

জুলাই আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যায় উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়ার চার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে গতবছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারানো শেখ হাসিনা তখন থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেখান থেকেই এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই বিচারে তিনি কিংবা তার দলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ‘ন্যায্য সুযোগ’ দেওয়া হয়নি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারো এমন চিঠি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল বলেন, “কিচ্ছু সুযোগ নাই। কিচ্ছুই সুযোগ নাই। উনি কী করে উনাকে, এই ফার্মকে উনি এঙ্গেজ করবেন? তারপরে যদি থাকে, তাহলে সেই ফার্ম, তাদের আইনগত...লিগাল অ্যান্টিটিটা কোথায় এই জাতীয় চিঠি লেখার?

“বরঞ্চ এই জাতীয় যারা করেন, এটা এইগুলি কনটেমচুয়াস। এইগুলি কনটেমচুয়াস এবং দেখেন ওখানে উনি প্রথম প্যারায় লিখছে, ‘উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অফ শেখ হাসিনা’। তার মানে কি শেখ হাসিনার লবিস্ট কি না?

“তো সেটা যদি উনি লবিস্ট হন, তাহলে তো বোঝাই যায় যে এইগুলি খুব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, এইগুলি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত বা ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে একটা আলোচনার মধ্যে রাখার জন্য তারা হয়তো এরকম করছে। তো আমরা এইগুলি খুব আমলে নিচ্ছি না। এইগুলি নিয়ে আমরা মোটেও কনসার্ন না।”

ট্রাইব্যুনাল তার স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যারা প্রসিকিউশনে কাজ করছি, আমরা এইগুলি নিয়ে আমাদের কথা বলা বা চিন্তা করার সুযোগ নাই, সময় নাই।”

 

সর্বাধিক পঠিত