স্টাফ রিপোর্টার : যুবদল নেতা আরিফ হত্যা মামলার পর এবার জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে।
ভাটারা থানার এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে যুবদল নেতা আরিফ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় নতুন বাজার এলাকায় সজীব খানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ১৭ মার্চ বিথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই হাসানুজ্জামান। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২ এপ্রিল দিন রাখে।
সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য বিথীকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, “খাদিজা ইয়াসমিন বিথি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাকে একাধিকবার ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা যায় মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
“আসামি এ মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে মর্মে তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।”
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভাটারার নতুন বাজার ব্রিজের নিচে মো. সজীব খান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। এসময় আওয়ামী লীগের ১৫০/২০০ জন ‘সন্ত্রাসী’ লাঠি, লোহার রড, হকিস্টিক এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে।
“তারা সজীবসহ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র-জনতার ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে এবং ককটেল, হাতবোমা ও পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে অনেকে হতাহত হয়। সজীবের বাঁ হাতে এবং শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর সজীব খান গত বছরের ১৪ মার্চ ভাটারা থানায় মামলা করেন।
