ফুলকি ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণেই খেলার স্বাদ পেয়ে গেছেন কুপার কনোলি। তবু মুখিয়ে ছিলেন তিনি আইপিএল খেলতে। বিশ্বজুড়েই তো ক্রিকেটারদের কাছে এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারা এখন দারুণ কাঙ্ক্ষিত। পাঞ্জাব কিংসের একাদশে জায়গা পেয়েই তিনি ছিলেন দারুণ রোমাঞ্চিত। সেখানে শুধু মাঠেই নামেননি, দারুণ ইনিংস খেলে দলের জয়ের নায়ক তিনিই! অভিষেকে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে তরুণ অলরাউন্ডার বললেন, এমন কিছু তার ভাবনার সীমানায় ছিল না।
গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মঙ্গলবার আইপিএলের প্রথম স্বাদ পান কনোলি। তার বাঁহাতি স্পিন এ দিন কাজে লাগাননি শ্রেয়াস আইয়ার। ৫ বোলার দিয়েই ২০ ওভার শেষ করে দেন পাঞ্জাব অধিনায়ক।
ব্যাটিংয়ে তাকে নামানো হয় তিন নম্বরে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫ নম্বরের ওপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি এখনও। তবে বিগ ব্যাশে ওপেন করেছেন, তিনে খেলেছেন বেশ কিছু ইনিংস। আইপিএল অভিষেকেও ক্রিজে গেলেন দ্বিতীয় ওভারে। ১৬৩ রান তাড়ায় টিকে রইলেন শেষ পর্যন্ত।
আরেক প্রান্তে লম্বা সময় সঙ্গী পাননি কাউকে। শেষ দিকে দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকেও পড়েছিল দল। কিন্তু কনোলি এক প্রান্তে অটল থেকে ৪৪ বলে ৭২ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন।
ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে কনোলি বললেন, নিজেকেও চমকে দিয়েছেন তিনি। জয়ের কৃতিত্ব অবশ্য গোটা দলকেই দিচ্ছেন ২২ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“নাহ, এরকম কিছু (ম্যান অব দা ম্যাচ) করব বলে ধারণা করতে পারিনি। আমি স্রেফ বিশ্বমানের কিছু ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। সেখানে আজকে রাতে এরকম পারফরম্যান্স করতে পারাটা দারুণ।”
“তবে এটা দলীয় পারফরম্যান্স। আজকে রাতে দল হিসেবেই আমরা জিতেছি এবং আমাদের আলোচনায় সবসময় দলই থাকে।”
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে তাকে দারুণ সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই। এজন্যই তিন সংস্করণে খেলে ফেলেছেন। যদিও ওয়ানডেতে একটি ফিফটি ও একবার ৫ উইকেট ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু অন্য সংস্করণগুলোতে করতে পারেননি। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত জীর্ণ। তবে সম্ভাবনাময় বলেই এবারের আইপিএলের নিলামে তাকে ৩ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছে পাঞ্জাব। সেই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল পাঞ্জাবের কোচ ও অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের। কনোলির প্রতিভা তার নজর এড়ায়নি।
তবে আইপিএলের আগে খুব ভালো ছন্দে তিনি ছিলেন না। সেই সময় ক্রিকেট থেকে বিরতি তাকে সহায়তা করেছে নিজেকে ফিরে পেতে।
“একটু চনমনে হয়েই ফিরেছি মাঠে। বাড়িতে সপ্তাহ দুয়েক ছুটি কাটিয়েছি, পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তরতাজা হয়ে নতুনভাবে ফিরেছি।”
“এই সময়টুকুই সম্ভবত বদলে দিয়েছে আমাকে এবং মনে হলো, ‘ঠিক আছে, নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেব এবং একদম নতুন উদ্যমে আইপিএলে নামব।”
এমনিতে ছক্কাপ্রিয় হিসেবে খুব পরিচিতি নেই কনোলির। তবে এই ম্যাচ ৫টি চারের সঙ্গে ছক্কা মেরেছেন ৫টি। সেটির পেছনে ক্রিকেটীয় কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি জানালেন কোচ পন্টিংয়ের অবদানের কথা।
“আমার জন্য ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। আমি মূলত এমন ক্রিকেটার, যে ছন্দের ওপর নির্ভর করে। নিজের হাতে বলের প্রবাহটা অনুভব করতে পছন্দ করি। খুব বেশি বড় ছক্কা মারার চেষ্টা করি না।”
“রিকির সঙ্গে কাজ করাটা দারুণ ছিল। এই প্রথম পাঁচ দিনে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন আমাকে সাহায্য করেছে। টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য মুখিয়ে আছি।”
কনোলির ৫ ছক্কার ২টি রাশিদ খানের বলে। টি-টোয়েন্টির সফলতম বোলারকে এই ম্যাচেই ক্যারিয়ারে প্রথমবার খেললেন তিনি। ২ ছক্কার সঙ্গে ১টি চারও মেরেছেন তিনি লেগ স্পিনের জাদুকরকে। তরুণ একজন ক্রিকেটারের জন্য দারুণ ব্যাপার বটে।
কনোলি তা উপভোগও করেছেন। তবে দলের জয়ই বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে তাকে।
“তাকে প্রথমবার খেললাম আমি। মাঠে তখন স্রেফ সময় কাটাতে শুরু করেছিলাম এবং ব্যাপারটা উপভোগ করছিলাম। তবে দলের জন্য জয় দিয়ে শুরু করতে পারাটা ভালো হয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”
কনোলির এই ইনিংস ও রাশিদ খানের বলে একটি ছক্কা দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও।
“যে শটগুলো সে খেলেছে, কয়েকটি দেখা ছিল পরাবাস্তব ব্যাপার। অবিশ্বাস্য ছিল। আইপিএলের সেরা বোলারদের একজন রশিদের বলে ব্যাকফুটে যে ছক্কাটি মেরেছে, এত পরিষ্কার ও নিখুঁতভাবে মেরেছে, এককথায় ছিল অসাধারণ।
