স্টাফ রিপোর্টার : উন্নত চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন।
মঙ্গলবার তিনি এ আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন ট্রইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা মনে করি, বিচার তার নিজস্ব গতিতে বিচারের মতো চলবে। কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি (আসামি) যদি অসুস্থ হন এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সেটাও যথাযথভাবে তিনি নেবেন। এ বিষয়ে আমরাও ট্রাইব্যুনালকে বলব, কোনো আসামির যদি সত্যিকার অর্থে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকে এবং প্রয়োজন হয়, তিনি যেন চিকিৎসাটা পান।”
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
সে বছরের ১৮ নভেম্বর কামরুল ইসলাম উত্তরায় গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় কয়েকটি মামলায় ঢাকা ২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আসামি করা হয়।
গত বছরের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে এসে টয়লেটে পড়ে মাথা ফেটে যায় কামরুল ইসলামের।
সে সময় তার আইনজীবী নাসিম মাহমুদ বলেছিলেন, তিনি পাকস্থলীর ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত।
কামরুল ইসলামের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া তুলে ধরে ট্রইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, তার আইনজীবীরা সোমবার বিষয়টি মৌখিকভাবে ট্রাইব্যুনালের নজরে এনে দাবি করেছিলেন যে তিনি অসুস্থ। এরপর মঙ্গলবার এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে আসামিপক্ষ থেকে একটি লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে।
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “যেহেতু বিষয়টি আজ কজ লিস্টে (কার্যতালিকা) ছিল না, তাই আগামীকাল এটি কার্যতালিকায় আসবে। তিনি কী রোগে আক্রান্ত, এ বিষয়গুলো নিশ্চয়ই তাদের দরখাস্তে উল্লেখ আছে।”
বিগত সরকারের আমলে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে ‘বঞ্চিত করার অমানবিক’ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছিল মন্তব্য করে আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আসামিদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রসিকিউশন সেই পথে হাঁটবে না। কোনো আসামির সত্যিকার অর্থে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে মানবিক কারণে ট্রাইব্যুনালের কাছে তার চিকিৎসার পক্ষেই মত দেবে রাষ্ট্রপক্ষ।”
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “বিগত সরকারের সময় আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করতাম। কিন্তু সেই আদেশ আমরা পেতাম না। তবে আমরা সেই অমানবিক কাজটা করতে চাই না।”
