মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি হচ্ছে
daily-fulki

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি হচ্ছে


স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটি গঠনের চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত আসে। এ বিষয়ে সরকারি দল এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন।


বিতর্ক ও আলোচনার শেষ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পিকারকে এই বিশেষ কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। এর আগে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাব নীতিগতভাবে গ্রহণ করেন। তবে কমিটিতে সদস্য সংখ্যার অনুপাত নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়।

সমান সদস্যের দাবি নাকচ করেন আইনমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও কমিটিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সমান সংখ্যক (৫০-৫০) সদস্য রাখার জোর দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেখানে বিরোধীদলের মতামতের কোনো মূল্যায়ন হবে না এবং শেষ পর্যন্ত তা ‘যে লাউ সেই কদু’তেই আটকে যাবে। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান চাই। তাই সরকারি ও বিরোধীদল, দুই দিক থেকেই সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।


তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, বিরোধীদলের নেতাও তা পরোক্ষভাবে গ্রহণ করে বলেছেন সদস্য সংখ্যা ৫০-৫০ হলে ভালো হয়। ‘বিচার মানেই তালগাছটা আমার— এটা তো হতে পারে না! সংসদে ২১৯ জন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ, আর ৭৭ জনের প্রতিনিধিরা পাবেন ৫০ শতাংশ; এটি পৃথিবীর কোন জায়গায় আছে? এটি কি বৈষম্য নয়? এটা কোন আইনে আছে?

এরপর আইনমন্ত্রী স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি একটি কমিটি গঠন করুন। সংসদ একটি কমিটি গঠন করুক, যেখানে আমরা সবকিছু বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে জুলাই সনদের পথ অনুসরণ করে এমন একটি সংশোধনী আনব, যা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব
বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সরকারি ও বিরোধীদল সবাইকে নিয়ে জাতীয় সংসদে সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা করে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধনী আনতে চাই।

এই কমিটির মাধ্যমে জনপ্রত্যাশিত সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন ও গ্রহণ করা হোক।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংবিধান সংস্কার আদেশকে ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আর এ ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা ছিল না। যে আদেশের জন্মই বৈধ হলো না, সেই আদেশ লিগ্যাল ল্যাঙ্গুয়েজে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা সূচনা থেকেই অবৈধ। এছাড়া গণভোটে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

গঠনমূলক সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিরোধীদলীয় নেতা
সরকারকে গঠনমূলক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়; বরং যেখানে সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানে সহযোগিতা করব, এবং জাতির অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনে বিরোধিতা করব।

সবশেষে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকার এড়িয়ে যেকোনো ইস্যুতে সমতাভিত্তিক সমাধানে পৌঁছাতে স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
 

সর্বাধিক পঠিত