মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত
daily-fulki

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত


স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায়, তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবীর করা সাবমিশ (চিকিৎসাব আবেদন) বেশ লম্বা অথাৎ প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার সাবমিশন হওয়ায় তা পড়ে দেখার জন্য আগামিকাল বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।


আবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ৭৬ বছর বয়স। তিনি বর্তমানে লিভার ক্যান্সারে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসার দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের ডিরেকশন চাচ্ছি। একইসঙ্গে আবেদনে আরও বলা হয়, যেহেতু কামরুল ইসলামরে ছেলেও একজন চিকিৎসক, সুতরাং এভারকেয়ারে চিকিৎসাকালে তিনি যেনো দেখভাল করার জন্য সব সময় হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি পান।


কামরুল ইসলামের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ মানবজমিনকে বলেন, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ২০১৭ সাল থেকে গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে ক্যান্সারের পাশ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তার সারা শরীরে সংক্রমণ বা ক্ষত দেখা দিয়েছে। তিনি এখন ডিমেনশিয়ায় (চিত্তভ্রংশ) আক্রান্ত যার কারণে তার স্মৃতিশক্তি, আচরণ এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। সিফাত মাহমুদ আরও বলেন, কামরুল ইসলামকে বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কারাগারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেলে করা হয়েছে। এমনকি তাকে কেরানীগঞ্জে একটি হাসপাতালেও চিকিৎসা দেয়া হয়েছিলো। আমরা তাকে বিশেষায়িত হাসপাতাল এভারকেয়ারে আসামির নিজ খরচে চিকিৎসার দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছি। আগামিকাল এর শুনানি হবে।

 

এদিকে, শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সার্বিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এসময় কারমুল ইসলামের ব্রাপারে তিনি বলেন, সাবেক মন্ত্রী জনাব কামরুল ইসলাম সাহেব যিনি আমাদের ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার আসামি। তার পক্ষ থেকে একটা দরখাস্ত দিয়েছিল গতকালকে এতে তাদের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের নজরে এনেছিলেন। তিনি অসুস্থ বলে দাবি করেছেন। আর আজকে তারা একটা দরখাস্ত দিয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। যেহেতু এটা আজকে কার্য তালিকায় ছিল না, আগামী কালকে এটা কার্য তালিকায় আসবে। কি রোগে তিনি আক্রান্ত, এগুলি নিশ্চয়ই তাদের দরখাস্তে আছে, আমরা দরখাস্ত দেখব। যদি সত্যিকার অর্থেই তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে তো মানবিক কারণে তিনি চিকিৎসা পেতেই পারেন।


তিনি আরও বলেন, একটা জিনিস আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে সেটা হচ্ছে যে, বিগত সরকারের সময় আপনারা জানেন যে আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য কিন্তু আমরা আবেদন করতাম। বারবার আমরা আবেদন করতাম, কিন্তু সেই আদেশও আমরা পেতাম না। কিন্তু আমরা সেই অমানবিক কাজটা করতে চাই না। আমরা মনে করি, বিচার বিচারের মত চলবে। মানুষ হিসেবে তিনি যদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সেটাও যথাযথভাবে তিনি চিকিৎসা নিবেন এবং সেই বিষয়ে আমরাও ট্রাইব্যুনালকে বলব যে কোনো একজন আসামি যদি সত্যিকার অর্থে তার চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকে, তিনি যেন চিকিৎসাটা পান।
 

সর্বাধিক পঠিত