শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সিংগাইরে ধলেশ্বরীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ড্রেন নির্মাণে কাজ বন্ধ
daily-fulki

সিংগাইরে ধলেশ্বরীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ড্রেন নির্মাণে কাজ বন্ধ


মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বিন্যাডাঙ্গী এলাকার সুদক্ষিরা মৌজায়  ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দখল করে ড্রেনেজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রেজা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (আরসিএল) পরিচালিত অ্যাসয়ার ওয়াশিং ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের আপত্তি ও সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয়েরর আশঙ্কায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।


জানা যায়, সুদক্ষিরা মৌজার নদী তীরবর্তী ফোরশোরভুক্ত জমিগুলো সর্বশেষ দিয়াারা জরিপ (বিআরএস) অনুযায়ী খাস খতিয়ানাভুক্ত হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। তবে এর কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানাতেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, বিআরএস ৩৩৭ দাগের ১৩ শতাংশ এবং ৩২৯ দাগের ৪৮ শতাংশ জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, এসব জমি দখল করেই আরসিএল কোম্পানি তাদের ওয়াশিং ফ্যাক্টরির জন্য ড্রেনেজ নির্মাণ শুরু করে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ফ্যাক্টরি থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত একটি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল, যার মাধ্যমে কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হতো। এতে একদিকে খাস জমি দখল হচ্ছে, অন্যদিকে নদী দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং বিভক্তি তৈরি হওয়ায় সংঘাতের আশঙ্কাও করছেন অনেকে।


এর আগেও একই এলাকায় ডরিন গ্রুপের মালিকানাধীন মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশনস প্রতিষ্ঠান নদীর ফোরশোরভুক্ত জমির ওপর দিয়ে দাহ্য পদার্থ পরিবহনের জন্য পাইপলাইন স্থাপন করে। বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। পার্শ্ববর্তী ধল্লা ইউনিয়নের এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম দেখা গেছে, যা নদী ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


অ্যাসপায়ার ওয়াশিং প্ল্যান্টের ইঞ্জিনিয়ারার নাসির উদ্দিন জানান, স্থানীয় লাবু সরকারের মাধ্যমে লিজ নেওয়া জমির মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে তারা কাজ শুরু করেছিলেন। তবে প্রশাসনের বাধায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিনি বলেন, অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে, এখনো অনুমোদন মেলেনি।


মধ্যস্থতাকারী লাবু সরকার দাবি করেন, জনৈক পারভেজের কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি বায়না করে প্রায় ৪ ফুট প্রস্থ ও ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল, যাতে ফ্যাক্টরির বর্জ্য অপসারণ করা যায়।


জামির্ত্তা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, খাস জমিতে ড্রেন নির্মাণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন জানান, নদী থেকে সড়ক পর্যন্ত পুরো এলাকা ফোরশোরভুক্ত। এ ধরনের এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা ভরাট করতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি আবশ্যক। পাশাপাশি ডাইং বা ওয়াশিং ফ্যাক্টরির পরিবেশগত বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর তদারকি করবে। আবেদন পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
 

সর্বাধিক পঠিত