স্টাফ রিপোর্টার : শুধু শখ বা বিনোদন নয়, বরং খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অধীনে খেলোয়াড়রা মাসে পাবেন এক লাখ টাকা। এমন বেতন পেয়ে সবাই উচ্ছ্বসিত।
আজ (৩০ মার্চ) সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসের মিশ্র বিভাগে রুপার পদক জেতা খই খই মারমা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আসলে ভাবতেই পারিনি মাসে এত বেতন পাব।
এটা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য খুশির ব্যাপার।’
মিশ্র বিভাগে খই খইয়ের সঙ্গে পদক জয়ী আরেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ। সরকারের মাসিক ভাতার কারণে এখন তিনি খানিকটা নির্ভার, ‘অনেক দিনের চাওয়া ছিল খেলাকে পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে।
ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফল বদলে দেবে। আমরা খেলাকে এখন পেশা হিসেবে নিতে পারব। আগে পিছুটান ছিল; এখন আর থাকছে না।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) চার মাস পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবে।
যারা ভালো পারফর্ম করতে পারবেন না, তারা এই ভাতার আওতা থেকে বাদ পড়বেন। তাদের জায়গায় নতুনরা বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে বলে মনে করেন খই খই, ‘তিন-চার মাস পর যেহেতু পরিবর্তন হবে, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে। আমরা যারা এই পর্যায়ে আসছি, আরো ভালো করার চেষ্টা করব।’
দুই দিন আগে থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে সোনার পদক জিতেছে বাংলাদেশ আর্চারি দল।
সেই দলের সদস্য হিমু বাছাড় বলেছেন, ‘অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ (খেলায়) আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই খেলায় আসবে। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’
হিমুর সঙ্গে একমত নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’
