সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে সড়কে ঝরলো ৩৫১ প্রাণ
daily-fulki

ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে সড়কে ঝরলো ৩৫১ প্রাণ


স্টাফ রিপোর্টার : বিদায়ী ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক-মহাসড়ক যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। বিগত বছরের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে। গত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেল ও নৌ-পথসহ সর্বমোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।


সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

দেশের জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

যাত্রীকল্যাণের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। সড়ক পথে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫১, আহত ১০৪৬।

রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫, আহত ২২৩। নৌ পথে ৮টি দুর্ঘটনায় নিহত ৮, আহত ১৯ (নিখোঁজ ৩)। মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আহতের সংখ্যা আরও ভয়াবহ।


শুধুমাত্র জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালেই এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
মোটরসাইকেলে ঝরলো ১৩৫ প্রাণ এমনটি জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী এবং ৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এছাড়া শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধারও প্রাণহানি ঘটেছে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারণ হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে। সেগুলো হলো:

১. মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।
২. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক।
৩. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং চালকের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা।
৪. সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ ও রোড সাইন না থাকা।
৫. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে খোলা ট্রাক ও বাসের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত।

মালিক সমিতির প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল মূলত বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত।

তিনি আরও বলেন, ঈদ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যা মালিকদের একচেটিয়া সুবিধা নিতে সাহায্য করেছে।

দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে:

১. সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো| ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতির চালু করা। 
২. মোটরসাইকল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন বন্ধ করা। 
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধ চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
৪. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ডিজটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান। 
৫. বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার ঘোষিত ৬০ ঘণ্টা ইনকুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ 
করা।
৬. পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মালিক সিমিতির একেচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
৭. গুরুৃতৃূপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা। 
৮. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকেদের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৯. মহাসড়েক ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা। 
১০. উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। 
১১. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১২. সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউিনট চালু করা।
১৩. ঈদযাত্রা একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্যমেয়াদি নানা 
পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকা উপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর দাবি জানানো হয়। 
 

সর্বাধিক পঠিত