স্টাফ রিপোর্টার : কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে কাল। আয়কর রিটার্ন ঘরে বসে অনলাইনে দিতে পারবেন। কোনো কাগজপত্র লাগলে আজই সংগ্রহ করতে হবে। কেউ জমা না দিতে চাইলে সময় বাড়িয়ে নিতে পারেন।
করদাতারা ৩১ মার্চের আগে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন। এর কোনোটি না করলে গুনতে হবে জরিমানা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, বর্তমানে দেশের প্রায় এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। করযোগ্য আয় থাকলে টিআইএনধারী ব্যক্তিদের রিটার্ন দিতে হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবানুযায়ী, এখনো পর্যন্ত ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন। ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন নিয়েছেন।
অনলাইনের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন ও সময় বাড়াবেন যেভাবে-
কিভাবে সময় বাড়াবেন
৩১ মার্চের মধ্যে করদাতারা এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেন্যু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে জমা দেওয়া করদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনেই আবেদন অনুমোদন অথবা বাতিল করবেন।
করদাতার সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ করলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
অনলাইনে দেবেন কিভাবে
সব করদাতাকে রিটার্ন দিতে হলে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে জমা দিতে হবে। এ জন্য প্রথমে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নেওয়ার জন্য একটি নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বর লাগবে। যারা দেশের বাইরে থাকেন, তাদের ই–মেইলের মাধ্যমে নিবন্ধনের ওটিপি দেওয়া হয়।
নিবন্ধন নিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনি আপনার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় আয়কর ফরমের বিভিন্ন অংশ পূরণ করতে হয়। বছরে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হয়। এরপর করমুক্ত আয়সীমা বাদ দিয়ে করের হিসাব করতে হবে। যদি বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়া যায়, তা-ও গণনায় আনতে হবে। এ ছাড়া কোনো খাতে করছাড় থাকলেও তা বিবেচনায় আনবেন।
আয়-ব্যয়ের পাশাপাশি সম্পদের বিবরণীও দিতে হবে। এ জন্য ৫০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ থাকতে হবে। বাড়ি–গাড়ি থাকলেও সম্পদের বিবরণী দেওয়া লাগবে।
অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় ঘরে বসেই কর দিতে পারবেন। যেমন ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
