শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ভুলেও ফ্রিজে রাখা ঠিক না যে সব খাবার
daily-fulki

ভুলেও ফ্রিজে রাখা ঠিক না যে সব খাবার

ফুলকি ডেস্ক : রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ রান্নাঘরের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। খাবার তাজা রাখা, সময় বাঁচানো ও পচন রোধে এর জুড়ি নেই। কিন্তু সব খাবার ফ্রিজের ঠাণ্ডা পরিবেশে ভালো থাকে না। বরং কিছু খাবার ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তা স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

আলু: আলু কখনই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় আলুর ভেতরে থাকা স্টার্চ দ্রুত চিনিতে রূপান্তরিত হয়। সেইসঙ্গে ফ্রিজের তাপমাত্রা আলুকে শক্ত করে ফেলে। আলু সংরক্ষণের আদর্শ জায়গা অন্ধকার, শুষ্ক ও ঠাণ্ডা স্থান।

 

কলা: কলা গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল, তাই এটি ঠাণ্ডায় ভালো থাকে না। ফ্রিজে রাখলে কলার খোসা দ্রুত কালো হয়ে যায় ও পচন ত্বরান্বিত হয়। সবচেয়ে ভালো হয় কাঁচা কলা কিনে কক্ষ তাপমাত্রায় পাকতে দেয়া।

তরমুজ: গ্রীষ্মের তৃপ্তি মেটানো তরমুজ আস্ত অবস্থায় ফ্রিজে রাখা একদমই অনুচিত। এতে তরমুজের ভেতরে ক্রিস্টাল বা বরফ দানা তৈরি হয়ে পচন দ্রুত করে। তবে কাটার পর অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।

তুলসী পাতা: সুগন্ধি এ ভেষজটি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায় রাখলে পাতায় কালো দাগ পড়ে যায় ও স্বাদ নষ্ট হয়। সতেজ রাখতে এটি এক গ্লাস পানিতে ডুবিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।

পেঁয়াজ ও রসুন: পেঁয়াজ ও রসুন উভয়েই শুষ্ক এবং বায়ু চলাচল করে এমন স্থানে ভালো থাকে। ফ্রিজের আর্দ্রতায় এগুলোয় দ্রুত ছাতা বা মোল্ড পড়ে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, পেঁয়াজ ও আলু কখনো একসাথে রাখা যাবে না, এতে পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়।

কফি: কফি বিন বা পাউডার ফ্রিজে রাখলে তা ফ্রিজের অন্যান্য খাবারের গন্ধ শুষে নেয়। আর এতে কফির আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কফি সবসময় বায়ুরোধী পাত্রে অন্ধকার জায়গায় রাখা উচিৎ।

মধু: মধুর স্থায়ীত্বকাল কয়েকশ বছর হতে পারে যদি তা বায়ুরোধী পাত্রে রাখা হয়। ফ্রিজে রাখলে মধু জমে শক্ত হয়ে যায়, যা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

পাউরুটি: অনেকেই মনে করেন ফ্রিজে রাখলে পাউরুটি ভালো থাকে, কিন্তু বাস্তবে ঠাণ্ডা বাতাস পাউরুটিকে দ্রুত শুকিয়ে ফেলে ও বাসি করে দেয়। তবে স্যান্ডউইচ তৈরির পর তা অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।

তেল: অলিভ অয়েল বা অন্যান্য ভোজ্য তেল ফ্রিজে রাখলে তা জমে চর্বির মতো শক্ত হয়ে যায়। তেলের গুণাগুণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এটি কিচেন ক্যাবিনেটেই রাখুন।

টমেটো: টমেটো ফ্রিজে রাখলে এর কোষীয় গঠন ভেঙে যায়, ফলে এটি নরম ও পানসে হয়ে পড়ে। টমেটোর আসল স্বাদ পেতে একে কক্ষ তাপমাত্রায় রাখুন।

অ্যাভোকাডো: কাঁচা অ্যাভোকাডো পাকানোর জন্য কক্ষ তাপমাত্রায় রাখা জরুরি।

মিষ্টি কুমড়া: ফ্রিজের আর্দ্রতায় মিষ্টি কুমড়া মাত্র ২-৩ দিনেই পচে যেতে পারে।

চকোলেট: ফ্রিজে রাখলে চকোলেটের ওপর সাদা আস্তরণ পড়ে এবং এর মসৃণ গঠন নষ্ট হয়।

শসা ও গাজর: এ সবজিগুলোয় প্রচুর পানি থাকে, যা ফ্রিজের ঠাণ্ডায় দ্রুত পচন শুরু করে।

গরম সস ও কেচাপ: এগুলোয় ভিনেগার ও প্রিজারভেটিভ থাকে, যা কক্ষ তাপমাত্রায়ও দীর্ঘকাল ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে এগুলোর স্বাদ ফিকে হয়ে যায়।

সাইট্রাস ফল: লেবু বা কমলা ফ্রিজে রাখলে এর রস শুকিয়ে যায় এবং চামড়া শক্ত হয়ে যায়।

মসলা: গুঁড়া মসলা ফ্রিজে রাখলে এর সুগন্ধ ও ঝাঁঝ কয়েক দিনেই হারিয়ে যায়।

 

সর্বাধিক পঠিত