শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
জ্বালানি তেলে সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী
daily-fulki

জ্বালানি তেলে সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী


যশোর সংবাদদাতা : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে।


বহির্বিশ্বে অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের খরচ বাড়ে। 
চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকার করেনি।

তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে তা নিশ্চিত করতে সরকার জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

বিএনপি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে।


‘কিন্তু আমাদের চাহিদা হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়েছে। প্রতিদিন ডিজেলের গড় চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১২শ’ থেকে ১৪শ’ মেট্রিক টন। ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমরা সরবরাহ করেছি। ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করার কাজও শুরু করেছি।


সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সকল নাগরিকের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে বিভিন্ন সরকার উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই, যাদের ভাতাপ্রাপ্তির হক আছে, তারাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মগুরুদের সম্মানি চালু হয়েছে। পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু হবে।

রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণ প্রতিবেশি ও আত্মীয়ের হক আদায় করলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার এবং প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।

স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ।

 

সর্বাধিক পঠিত