মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম এবার লিটারে বাড়ল ৯০ টাকা
daily-fulki

উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম এবার লিটারে বাড়ল ৯০ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম দেশে এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়ল। মাসের শুরুতে লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা, এবার বেড়েছে ৯০ টাকা।

আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করছে তারা। এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম সমন্বয় করা হলো।

মধ‍্যপ্রাচ‍্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানির দামে ব‍্যাপক ঊর্ধ্বগতিই দ্বিতীয়বার দর সমন্বয়ের কারণ বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি আটকে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এ মাসে দ্বিতীয়বার বাড়িয়ে বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

জেট ফুয়েলের লিটার দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। এর আগে দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। গত মাসে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

এবারে প্রতি লিটারের দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। এর আগে গত ৮ মার্চ প্রতি লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা ২৯ পয়সা।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ–১–এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

‘অযৌক্তিক’ বৃদ্ধি, পুনর্বিবেচনার আহ্বান

জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে তা দ্রুত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।

আজ মঙ্গলবার বিইআরসির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে। এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

এওএবি বলছে, ৫ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত প্ল্যাটস রেট বা আন্তর্জাতিক বাজারে ভিত্তিমূল্যের গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের প্রিমিয়াম, ডলারের বিনিময় হার ও ডিজেলের দাম বিবেচনায় এনে এই মূল্য নির্ধারণের কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নেই।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধির হারকেও ‘অস্বাভাবিক বেশি’ বলেছে এওএবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ।

সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইনসগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে যাত্রীদের ভাড়ায়। এতে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থতি বিবেচনায় নিয়ে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এওএবি।

 


 

 

সর্বাধিক পঠিত