ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে দূরপাল্লার পরিবহনের টিকিট পাচ্ছেন না।
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কর্মব্যস্ত মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ছুটছেন নাড়ির টানে।
এবার ঈদযাত্রায় গাবতলীতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র– যাত্রী আছে, বাসও আছে কিন্তু নেই পর্যাপ্ত সিট।
এসপি গোল্ডেন লাইনের টিকিট মাস্টার মেহেদী হাসান বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির পর বর্তমানে রানিং গাড়িতে অন্যান্য বছরের তুলনায় যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি। এ কারণে সব যাত্রীকে সিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সকাল থেকে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা রুটে দুটি গাড়ি ছেড়েছি।
কিন্তু রানিং গাড়িগুলোতে আর সিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সকাল থেকে টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন অনেক যাত্রী। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের বাসের টিকিট পাচ্ছেন না। এতে করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
কেউ কেউ আবার রানিং গাড়িতে ইঞ্জিন কভারে পূর্ণ ভাড়া দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
গার্মেন্টস শ্রমিক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আজ অফিস ছুটি হয়েছে। আগে অনলাইনে চেষ্টা করেছি কিন্তু টিকিট কাটা সম্ভব হয়নি। তাই গাবতলীতে এসে সকাল থেকে মেহেরপুরে যাওয়ার টিকিটের জন্য ঘুরছি কিন্তু কোনো গাড়িতে সিট পাচ্ছি না। যদি কোনো সিট না পাই, তাহলে আরিচায় যাব।
সেখান থেকে ভেঙে ভেঙে বাড়িতে যেতে হবে, এছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। যেভাবেই হোক বাড়িতে যাব, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব ইনশাআল্লাহ।

গাবতলীর হানিফ পরিবহনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মল্লিক বলেন, সকাল থেকে গাবতলী থেকে খুলনার উদ্দেশে ছয়টি বাস ছেড়েছি, আরও ৫-৬টি ছাড়তে পারব। কিন্তু কোনো গাড়িতে রানিং সিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কারণ টিকিট অনলাইনে আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস ছুটির কারণে সকাল থেকে গাবতলীতে কিছু যাত্রী আসছেন। কিন্তু তাদেরকে আমাদের গাড়ির টিকিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

যাত্রীদের অভিযোগ, কিছু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হলেও সিট নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
