ফুলকি ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। এই সময়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম হলো ইতিকাফ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে প্রতি বছর ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও এতে উৎসাহিত করতেন।
ইতিকাফ কী?
আরবি ‘ইতিকাফ’ শব্দের অর্থ হলো অবস্থান করা বা আবদ্ধ হওয়া। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জাগতিক কোলাহল ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদে বা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। যিনি ইতিকাফ করেন, তাঁকে বলা হয় ‘মুতাকিফ’।
ইতিকাফের ৫ বিশেষ ফজিলত
১. শবে কদর প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো মহিমান্বিত রাত ‘লাইলাতুল কদর’ অন্বেষণ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ করো।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০২০)। ইতিকাফকারী ব্যক্তি যেহেতু পুরো সময় ইবাদতে থাকেন, তাই তাঁর শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
২. হজ ও ওমরার সওয়াব লাভ
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে, সে ব্যক্তি দুটি হজ ও দুটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (সুনানে বায়হাকি: ৩৬৮১)
৩. গুনাহ থেকে মুক্তি
ইতিকাফকারী দুনিয়াবি সব পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ইতিকাফকারী সব গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে এবং বাইরে অবস্থানকারী নেককারদের মতো সওয়াব লাভ করতে থাকে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৮১)
৪. জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা
ইতিকাফকারীর জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা থাকে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে আসমান-জমিনের দূরত্বের চেয়েও বেশি প্রশস্ত তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন। (শুআবুল ইমান: ৩৬৭৯)
৫. ফেরেশতাদের দোয়া লাভ
ইতিকাফকারী যতক্ষণ নামাজের স্থানে অবস্থান করেন, ততক্ষণ ফেরেশতারা তাঁর জন্য রহমত ও ক্ষমার দোয়া করতে থাকেন। (সহিহ্ মুসলিম: ৬০১১)
ইতিকাফ হলো আত্মার পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ। মানবিক সব চিন্তা-চেতনার ঊর্ধ্বে উঠে ইতিকাফ একজন মানুষকে প্রকৃত মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই সম্ভব হলে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অন্তত একবার হলেও এই সুন্নত পালনের চেষ্টা করা উচিত।
