স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বলেছেন, নয়াদিল্লি সবসময়ই একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
জাতীয় সংসদ ভবনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৭ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে এ ইফতার মাহফিল আয়োজিত হয়।
ইফতার মাহফিলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফিলিস্তিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, তুরস্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইরান, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ দেশ-বিদেশের গণ্যমান্য কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউএনডিপি, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ইউএনওডিসি, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, আইওএম-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপষ্টো মির্জা আব্বাস, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয় সংসদের তিন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আশরাফউদ্দিন নিজান ও রফিকুল ইসলাম বকুল, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, জাকের পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা এ ইফতারে যোগ দেন।
এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রণয় ভার্মা ভারত ও বাংলাদেশের গভীর বন্ধুত্ব এবং দুদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়া তিনি আজকের ইফতার আয়োজনকে দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্ব এবং সামাজিক ও পারিবারিক নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যৌথ ত্যাগের অমোচনীয় স্মৃতি আজও আমাদের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
ভার্মা বলেন, ইফতারে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দুই প্রাণবন্ত ও অগ্রসরমান সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এক প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের জনগণকে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, রমজান মাস হলো সংযম, সহমর্মিতা ও উদারতার এক বিশেষ সময়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মাস শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও অতিথিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও গঠনমূলক সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মানুষকে সংযম, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করা গেলে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বমানবতার শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
