স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে ভেজাল সয়াবিন তেল ও নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় কারখানার মালামাল জব্দসহ কারখানাটি সিলগালা ও এর ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা এক নারীকে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম।
শনিবার দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মজিবুর রহমানের দেওগা মহল্লার বাড়িতে অবস্থিত ‘গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেড’ কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেন।কারখানাটি থেকে ম্যানেজার আসমা আক্তার, শ্রমিক হ্যাপি আক্তার ও নিলুফাকে আটক করেন। পরে শুধু আসমা আক্তার কে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল আকৃতির এই কারখানাটিতে খোলা সয়াবিন তেল, পাম ওয়েল ও ফার্নিস ওয়েল ড্রাম ভর্তি করে কিনে এনে বিভিন্ন কেমিক্যাল এর মিশ্রণে রিফাইন করার পর তা বোতলজাত করা হয়। ভিটামিন এ এর গুণাবলী সমৃদ্ধ সয়া ফটিফাইট সয়াবিন তেল মোড়ক লাগিয়ে এক, দুই, তিন ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত করে খুচরা দোকানগুলোতে বাজারজাত করেন। এ ধরনের তেল স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কারখানাটিতে নেই কোন ল্যাব, নেই কেমিস্ট, নেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন তবুও তারা বোতলের মোড়কে বিএসটিআইয়ের এর লোগো ব্যবহার করেছে। এই তেলে কি কি পুষ্টি গুণ পাওয়া যাবে তাও বোতলের গায়ে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া কারখানাটিতে নামি ব্রান্ড সানশাইন কোম্পানির সানশাইন ডিটারজেন্ট পাউডার নামে নকল পাউডার তৈরি করা হচ্ছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, খোলা ও ভেজাল তেল বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া বোতলজাত করে বিক্রির দায়ে ম্যানেজার আসমা আক্তারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই কারখানার ভেজাল মালামাল জব্দ ও কারখানাটি সিলগালা করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
আরিফ হোসেন বলেন, আমি এর আগেও আমাদের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানকে এই কারখানার ব্যাপারে সতর্ক করেছিলাম কিন্তু তিনি কোন গুরুত্ব দেননি।পরে পাশের আরেকটি নাম সর্বস্ব কসমেটিক তৈরির কারখানা অভিযানে গেলে ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে বাহির থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় কারখানার শ্রমিক কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে কারখানায় অভিযানের কথা জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ সময় অভিযানে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেডের মালিক নিজামুদ্দিন পলাতক থাকায় আটক ম্যানেজার আসমা আক্তার দাবি করেন আমরা কারখানাটি বড় করার চেষ্টা করছি। কারখানা বড় হলে তখন কাগজপত্র করব। আমরা কোন ভেজাল কিছু করি না। ড্রাম থেকে তেল বোতলে ভরে তা বাজারজাত করি আমাদের কিছু মুনাফা হয়। এখানে ভেজালের কি হলো।
