শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
কিডনি রোগীরা রোজায় কীভাবে খাবেন
daily-fulki

কিডনি রোগীরা রোজায় কীভাবে খাবেন


স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ কিডনি রোগে আক্রান্ত। এ সংখ্যা ২ কোটির বেশি হতে পারে। প্রতিবছর এই সংখ্যা বাড়ছে। পবিত্র রমজান মাসে কিডনি রোগীরা রোজা রাখার সময় সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসক যদি মনে করেন, আপনি রোজা রাখার মতো শারীরিক সুস্থতায় আছেন, তবেই রোজা রাখবেন। আর রোজা রাখলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শে আপনার খাদ্যতালিকা সাজিয়ে নিন।


সাধারণত প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারেন। তৃতীয় পর্যায়ের রোগীদের অবশ্যই কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে হবে। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের রোগী এবং ডায়ালাইসিস রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকে।


কিডনি রোগীরা কী খাবেন

কিডনি রোগে পানিও মেপে পান করতে হয়। তাই আপনাকে বুঝেশুনে খাবার খেতে হবে। কিডনি রোগীদের রক্তের ক্রিয়েটিনিন রিপোর্ট দেখে দেখে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিনের ওপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আর রক্তের ইলেকট্রোলাইটসে পটাশিয়াম এবং বাই কার্বনেটের রিপোর্ট দেখে শাকসবজি আর ফলমূল খেতে নিষেধ করা হয়।

রোগীদের যদি শুধু ক্রিয়েটিনিন বেশি থাকে, সে ক্ষেত্রে ডাল ও ডালের তৈরি খাবার খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। ডালের বেসন দিয়ে তৈরি বেগুনি, বিভিন্ন রকম চপ, পাকোড়া, হালিম ইত্যাদি খাওয়া যাবে না। শিম বিচি, কাঁঠাল বিচি, মটরশুঁটি, বরবটি, বাদাম কিংবা এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার বন্ধ রাখতে হবে। মাছ-মাংস স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম খাওয়া উচিত। গরু ও খাসির মাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা না থাকলে এগুলো পরিমিত খাওয়া যাবে।

রোগী নিরামিষভোজী হলে পরিমিত ডাল খাওয়া যাবে। অথবা সে ক্ষেত্রে পনির হতে পারে প্রোটিনের ভালো একটি উৎস। কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম এবং বাই কার্বনেট যদি বেশি থাকে, সে ক্ষেত্রে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ শাকসবজি এবং ফল খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

ফল

প্রায় সব ফলই যেহেতু পটাশিয়াম সমৃদ্ধ, তাই ফল খাওয়া বন্ধ রাখা ভালো। বিশেষ করে টক ফলে পটাশিয়াম অনেক বেশি থাকে। শুধু আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, পেঁপে ও বরই কম পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। এই ফলগুলো দিনে পরিমিত খাওয়া যাবে। ডাবের পানি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পান না করাই ভালো।

শাকসবজি

সব ধরনের শাকসবজিতে কমবেশি পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনিবান্ধব নয়। তাই শাকসবজি থেকে পটাশিয়াম কমিয়ে ফেলার জন্য এগুলো সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে রান্না করতে হবে। এতে পটাশিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও কমে যাবে। শাকসবজি বেশি ঝোল করে রান্না করবেন, কিন্তু কম ঝোল নিয়ে খাবেন। আবার এগুলো রান্নার সময় তাপে ৩০-৪০ শতাংশ পটাশিয়াম নষ্ট হয়ে যায় বলে রান্না করা শাকসবজি বেশি নিরাপদ। অর্থাৎ শাকসবজি ভাজি করে কিংবা অর্ধসেদ্ধ করে খাওয়া যাবে না।

আটা ও ময়দার তৈরি খাবার খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম পর্যায়ের রোগীদের আটা ও ময়দার তৈরি খাবার বন্ধ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে চালের আটার তৈরি খাবার খেতে হবে। সব ক্ষেত্রে মসলার ব্যবহার অবশ্যই কমাতে হবে। সারা দিনে লবণের ব্যবহার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো জরুরি। লবণ বেশি খেলে উচ্চ রক্তচাপ বাড়বে, সঙ্গে কিডনির আরও অবনতি হবে।

ইফতার

ফল: ১ থেকে ২টি খেজুর, ১০০ গ্রাম আপেল কিংবা নাশপাতি বা পেঁপে অথবা পেয়ারা।

শরবত: ১২০ থেকে ১৮০ মিলিলিটার কচি ডাবের পানি বা ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপের জুস। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পটাশিয়াম বেশি থাকলে ডাবের পানি পান না করাই ভালো।

এনার্জি বুস্টার: একটা সেদ্ধ ডিম কুসুমসহ।

অন্যান্য খাবার যেকোনো একটি কম চর্বিযুক্ত দুধ দিয়ে তৈরি সাগু অথবা চালের আটার রুটি, মাছ অথবা মাংস কিংবা ২-৩টি ডিমের সাদা অংশ ও শাকসবজি।

অথবা ভাত ও মাছ বা মাংস অথবা ২-৩টি ডিমের সাদা অংশ ও শাকসবজি তারাবির নামাজের পরে কম চর্বির দুধ বা টক দই দিয়ে ওটস খেতে পারেন। অথবা রুটি বা ভাত, মাছ অথবা মাংস ও শাকসবজি।

সেহরি

ভাত, শাকসবজি, মাছ কিংবা মাংস অথবা ডিমের সাদা অংশ বা ১ কাপ কম চর্বিযুক্ত দুধ কিংবা টক দই।

বাইরের খাবার, প্যাকেটজাত খাবার এবং টেস্টিং সল্টযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবার খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সে ক্ষেত্রে কিডনি জটিলতা আরও বেড়ে যাবে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

 

সর্বাধিক পঠিত