ইবিসংবাদদাতা : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান লিখিত স্টেটমেন্টে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে ফজলুর রহমানের লিখিত স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বিভাগীয় প্রধান তাকে বদলি করায় এবং বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় তার মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ফজলুর রহমানকে বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে (আইসিইউ) ভর্তি রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। তাকে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং চোখ মেলে তাকাচ্ছেন। কিছু জানতে চাইলে কলম দিয়ে লিখে উত্তর দিতে পারছেন। বুধবার রাতেই পুলিশের কর্মকর্তারা তার দুই পাতার লিখিত বক্তব্য নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসছেন এবং তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার স্বামীর বড় ভাই আবদুর রশিদ বলেন, কর্মস্থলে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় কিছু রাঘববোয়াল জড়িত আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি ও জিডি করা হয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. হোসেন ইমাম ও মেডিকেল অফিসার ডা. রুমন রহমান। এদিকে দুপুর ২টার পর তার লাশ জানাজার উদ্দেশে কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে তার লাশ পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
