রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে নরসিংদীর ওবায়দুল্লাহ’র মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার
daily-fulki

সাভারে নরসিংদীর ওবায়দুল্লাহ’র মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার


স্টাফ রিপোর্টার : নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডিত অংশ সাভার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।


রবিবার (১ মার্চ) দিনভর আমিনবাজার সালেপুর ব্রিজের নিচ থেকে মৃতদেহের খন্ডিত অংশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন।


এর আগে সকালে মতিঝিল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা মরদেহের খন্ডিত অংশ উদ্ধারে সাভারের আমিনবাজার সালেপুর ব্রিজের নিচে অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই পেটের নিচের অংশ উদ্ধার সক্ষম হয় তারা।


ঢাকার সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, আমরা ভোররাতে পুলিশের কল পেয়ে সকালে সাভারের আমিনবাজার সালেপুর ব্রিজের নিচে চার সদস্যের ডুবুরি দল নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। অভিযানের শুরুতে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হই এবং বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।


পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররম এর সামনে থেকে দুটি হাত এবং পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে জানা গেছে খন্ডিত অংশগুলো ৩০ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহর। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


এ ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর স্কাউট ভবনের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সাইকেলে করে এসে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু ফেলে দ্রুত চলে যায়। পরে ভিডিও বিশ্লেষণ করে সেই ব্যক্তিকে শাহীন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। হত্যার শিকার ওবায়দুল্লাহ মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্লাটে হোটেল কর্মচারী শাহীন আলমের রুমমেট হিসেবে থাকতো।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলম স্বীকার করেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে তিনি শুক্রবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। নিহত ব্যক্তি তার ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করতেন বলেও দাবি করেন শাহীন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ টুকরো করার কাজে ব্যবহৃত চাপাতি জব্দ করেছে।


আমিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জাকির হোসেন জানান, রবিবার সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও মতিঝিল থানা পুলিশ নিহতের খন্ডিত মরদেহ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শুরুর পরপর একটি খন্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলামান রয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যতক্ষন পর্যন্ত মরদেহের খন্ডিত অংশটি না পাওয়া যাচ্ছে ততোক্ষন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

সর্বাধিক পঠিত