মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর ( মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নর ফতেপুর গ্রামে টিউবওয়েল চুরির অভিযোগে এক সিএনজি চালককে গ্রাম্য সালিশে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সালিশের নামে ওই যুবককে ৫০টি জুতাপেটা করার পর জোরপূর্বক মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে তার স্বজনদের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. রাকিব (২৪) বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি স্থানীয় খোরশেদ আলমের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় আ. লতিফ ভান্ডারী, দ্বীন ইসলাম (মেম্বার), রতনসহ কয়েকজন রাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে ফতেপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত এক সালিশে নিয়ে যান। সেখানে হারুন বেপারীর বাড়ির টিউবওয়েল চুরির অভিযোগে তাকে দায়ী করা হয়। রাকিব অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে সালিশে উপস্থিত দ্বীন ইসলাম মেম্বারের নির্দেশে সেরন বেপারী নামে এক ব্যক্তি রাকিবকে ৫০টি জুতাপেটা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে লতিফ ভান্ডারীর নির্দেশে রতন নামের আরেক ব্যক্তি মেশিন দিয়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন।
এ সময় রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ফুফাতো ভাই শরীফ (২৮) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তার বাম চোখের ভ্রুর পাশে গুরুতর আঘাত লাগে। রাকিবের মা শিরিনা আক্তার (৪৫) ও ফুফু আরজুদা (৫০) এগিয়ে এলে তাদেরও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এ সময় হামলাকারীরা স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রোববার দিবাগত রাতে হারুনের বাড়ি থেকে টিউবওয়েলের মাথা চুরি হয়। পরে বাগুলি রাস্তা মান্নানের দোকানের মোড় এলাকা থেকে মানিক ও জহিরুলের কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাকিবকে ধরে এনে শাস্তি দেওয়া হয়।
তবে গ্রাম্য বিচারের সভাপতি লতিফ ভান্ডারী দাবি করেন, “সে চুরি করেছে এবং হাতেনাতে ধরা পড়েছে। বিচারে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অভিভাবকরা শাস্তি দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজারুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
