স্টাফ রিপোর্টার : সাভার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কানুনগোর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এক শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘদিন প্রতিবেদন জমা না দিয়ে জমি ঘুষ হিসেবে দাবি করা হয়। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার উলাইল কর্ণপাড়া এলাকার সাইদুর রহমান শাওন (২৪) সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাভার বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গেদ্দা মৌজায় এসএ, আরএস ও বিএস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ৩ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করতে তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৮ ধারায় আবেদন করেন। আবেদন নম্বর ৭১/২৫ এর প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কানুনগো জিয়াউদ্দিন মাহমুদ সরেজমিনে তদন্ত সম্পন্ন করলেও দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করেও প্রতিবেদন জমা দেননি। বরং অভিযোগকারীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি অথবা ৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১ শতাংশ তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাইদুর রহমান শাওন জানান, “আমরা কয়েক দফায় তার কাছে গেলে তিনি বলেন, টাকা বা জমি লিখে দিলে প্রতিবেদন আমাদের পক্ষে দিবেন। পরে বাধ্য হয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ করি। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারী তিনি একটি প্রতিবেদন দেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেদন না পাওয়ায় জমি সংক্রান্ত সমস্যায় তারা ভোগান্তিতে পড়েন এবং আইনি প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কানুনগো জিয়াউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকা বা জমি চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ছুটিতে যাওয়ার আগে অফিসের কর্মচারীদের কাছে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানোর খরচ ও প্রতিবেদন দিয়ে গিয়েছিলাম।
এদিকে অভিযোগটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে বলে অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে।
