স্টাফ রিপোর্টার : সাভার পৌর এলাকায় ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম পাওয়ায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার (২৫ ফেব্রয়ারী) দুপুরে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাভার পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেনকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন।
বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে পৌর এলাকার ভাগলপুর জামে মসজিদের সামন থেকে ফারুক প্রফেসরের বাড়ি পর্যন্ত ১৯০ মিটার আরসিসির সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটের তৈরি ড্রেনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। প্লাস্টার না করেই কোনোরকম বালু দিয়ে লেপে ড্রেনের কাজ শেষ করা হয়েছে। ড্রেনের গাঁথুনিতে সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়ায় সামান্য ধাক্কা লাগলেই সরে যাচ্ছে ইট। এ ছাড়া আরসিসি রাস্তা ঢালাইয়ের জন্য আসা হয়েছে নিম্নমানের ওয়েস্টেজ পাথর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯২১ টাকা ব্যয়ে ১৯০ মিটার সরু সড়কটিতে আরসিসি করন ও ইট দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজটি পেয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজ’।
প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা মো. বুলবুল বলেন, “কাজতো ঠিকমতোই করা হচ্ছে। ড্রেনের কাজেও কোনো অনিয়ম নেই।
তবে নিম্নমানের ওয়েস্ট পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওইসব পাথর আমি বাড়িতে নিয়ে যাব। ওগুলো দিয়ে কোনো কাজ করব না।”
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সাভার পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌফিক ইমাম রূপক বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনে ভেঙে নতুন করে আবার কাজ করে দেবে ঠিকাদার।
ড্রেনের কাজে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে প্রকৌশলী বলেন, “ড্রেনের মধ্যে পানি থাকায়, হয়ত সিমেন্ট দিয়ে ঠিকমতো প্লাস্টার করতে পারছে না। তবে আমি গিয়ে দেখব।”
সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ও ওয়েস্টেজ পাথর দিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ইউএনও স্যার বিষয়টি আমাকে বলেছেন।
আমি লোক পাঠিয়েছি। নিম্নমানের কোনো সামগ্রী ওখানে থাকবে না। যেখানে সমস্যা আছে সেসব জায়গা ভেঙে ঠিকাদারকে দিয়ে আবার কাজ করিয়ে নেব।
