শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
ভাষাশহীদ রফিক স্মৃতি জাদুঘরে মুর‌্যাল নির্মাণের দাবি
daily-fulki

ভাষাশহীদ রফিক স্মৃতি জাদুঘরে মুর‌্যাল নির্মাণের দাবি


মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এ উপলক্ষে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের পারিল গ্রাম (রফিকনগর) অবস্থিত ভাষাশহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ এর জন্মভিটায় নির্মিত স্মৃতি জাদুঘর ও শহীদ মিনারে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


শনিবার সকালে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন নাহার, মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম বিপিএম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন কিছুটা ঘাটতি ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ায় একুশে মেলায় এ বছর নেই তেমন দর্শানার্থী। বিনোদনের নেই তেমন কোন ব্যবস্থা। সদস্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে শপথ নেয়া এমপি ও মন্ত্রীর আগমন ঘটেনি এ গুরুত্বপূর্ণ স্থানটিতে।


১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পারিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রফিক উদ্দিন আহমদ। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। পরে রাত ৯টার দিকে ভগ্নিপতি মোবারক আলী খান তার লাশ শনাক্ত করেন। পরে রাত ৩ টায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে। কিন্তু অসংরক্ষিত কবরস্থানের কারণে আজও নির্দিষ্ট করে তার সমাধিস্থল চিহ্নিত করা যায়নি। অনেকের মতে, তিনিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।
তার স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জন্ম ভিটার পাশে নির্মিত হয় ‘ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন আহমদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’। ২০০৮ সালের ১৫ মে জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন আনিসুজ্জামান। জাদুঘরের দেয়ালে শহীদের ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী টানানো রয়েছে। ভেতরে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্যবিষয়ক বই সংরক্ষিত আছে। তার ব্যবহৃত চেয়ার টেবিল, লুঙ্গি ও পাঞ্জাবিও প্রদর্শিত হচ্ছে। ২০১৬ সালে বাড়ির আঙিনায় নির্মিত হয় একটি শহীদ মিনার।


তবে দর্শনার্থীদের অভিযোগ, ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পর্যাপ্ত দলিল, তথ্যচিত্র বা ব্যাখ্যামূলক উপস্থাপনা নেই। বিশেষ করে ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিল, গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্ত কিংবা হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য নিয়ে কোনো দেয়ালচিত্র বা মুর‌্যাল না থাকায় ইতিহাসের আবেগ ও আত্মত্যাগের গভীরতা পুরোপুরি ফুটে ওঠে না।


জাদুঘর দেখতে আসা সাভার ক্যান্টনমেন্ট মর্নিং গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সামিউল ইসলাম এবং সিংগাইরের বাইমাইল কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. হাসান ও নাঈমের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, শহীদ মিনারের পাশে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে একটি মুর‌্যাল নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ও জীবন্ত ধারণা পাবে। তাদের মতে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তটি দৃশ্যমান উপস্থাপনায় ফুটিয়ে তোলা গেলে ইতিহাসের গভীরতা আরও ভালোভাবে বুঝা সম্ভব হতো। 


শহীদের ভাতিজা শাহজালাল বাবু ও গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ফরহাদ খান কর্তৃপক্ষের নিকট জাদুঘর সমৃদ্ধ করতে শিক্ষাগত সনদ, একুশে পদকের অনুলিপি ও তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন।


মানকিগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ভাষাশহীদ রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও পরিকল্পনা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন নাহার জাদুঘরের রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।
 

সর্বাধিক পঠিত