সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
সাভার সরকারি হাসপাতালের ম্যানহোলে ওষুধ, স্টোরকিপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ
daily-fulki

সাভার সরকারি হাসপাতালের ম্যানহোলে ওষুধ, স্টোরকিপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

 

 স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে সরকারি হাসপাতালের ম্যানহোলে বিভিন্ন রোগের প্রচুর পরিমাণে সরকারি ঔষধ পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি স্টোর কিপারের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় স্টোর কিপার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন রোগের এসকল ঔষধের মধ্যে বেশিরভাগ প্যাকেটই খোলা হয়নি। ‘সাভার সরকারি হাসপাতালের ম্যানহোলে হাজার হাজার ঔষধ, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন’ শিরোনামে দৈনিক ফুলকিসহ বিভিন্ন পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে পরিত্যাক্ত ম্যানহোলেরট ভিতরে এসকল ঔষধ দেখা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের পাশে বর্জ্য রাখার ঘরের পরিত্যাক্ত ম্যানহোলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়েছিল। তখন এসব বিষয় জেনেও হাসপাতালের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।

 দীর্ঘদিন পর এ কমিটি তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদ আল হাসান বলেন, হাসপাতালের ম্যানহোলে সরকারি যে ওষুধগুলো পাওয়া গেছে তা সবই মেয়াদ উত্তীর্ণ। বেশিরভাগ ঔষধি ২০২৫ সালের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঔষধ ছিল। ওষুধগুলো ম্যানহোলে ফেলার পিছনে সমস্ত গাফিলতি পাওয়া গেছে স্টোরকিপার নুরুল ইসলামের। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ করা হয়েছে। জানাগেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষকে সরকারি ওষুধ না দিয়ে ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ বাজার থেকে কিনে নিতে বলেন। মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ফেলে দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে অনেককেই বলতে শুনাগেছে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ঔষধ আনতে গেলে ঠিকমতো ঔষধ দেয় না। তাহলে এতো ঔষধ ফেলে দেওয়ার রহস্য কি? এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মকর্তা করতে বলেন, ম্যানহোলের ভিতর যে ওষুধগুলো পাওয়া গেছে এগুলো খুব কম ব্যবহার হয়। যার কারণে ওষুধ মজুদ বেশি হয়ে যাওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে।

 আগে ঔষধ সরকার থেকে দেয়া হতো। এখন চাহিদা অনুযায়ী ঔষধ আমরা বাহির থেকে কিনে নেই। তবে সরকারী এই হাসপাতালে ঔষধের দায়িত্বে থাকা স্টোর কিপার নুরুল ইসলাম বলেন, আমি লিখিত জবাব তদন্ত কমিটির কাছে পেশ করেছি। এখন কমিটি যদি মনে করে আমি দোষী তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে তার দায়িত্বে থাকা ঔষধ ম্যানহোলের মধ্যে কিভাবে এলো সেসব বিষয়ে কিছুই বলছেন স্টোর কিপার।

 

সর্বাধিক পঠিত