সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
শিক্ষায় যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নতুন সরকারকে
daily-fulki

শিক্ষায় যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নতুন সরকারকে


স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে বলে অভিমত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথমেই শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনও বিকল্প নেই। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন না হলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল হারাবে বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রম জটিলতা নিরসন এবং কর্মমুখী শিক্ষা বাস্তবায়ন করে মানব সক্ষমতা বিনির্মাণসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেন শিক্ষাবিদরা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা হচ্ছে মানব সক্ষমতা বিনির্মাণের জায়গা, যা তারেক রহমানের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন, অতএব সাধারণ নাগরিক হিসেবে আশা করবো নতুন সরকার যারা গঠন করবেন তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং কর্মমুখী শিক্ষা নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শেষ দিকে এমন না হয় যে কেউ কথা রাখেননি। তারা কথা রাখবেন বলেই প্রত্যাশা।”


শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ


শিক্ষার মূল চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাঙ্গন জুড়ে বিশৃঙ্খলা। এই বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “শিক্ষা সেক্টরটায় বিশৃঙ্খলা চলছে। এক ধরনের অরাজকতাই বলবো। যখন যার খুশি রাস্তায় আন্দোলনে নেমে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে, শিক্ষাঙ্গনের যে পরিবেশ তা থাকেনি। সেই বিশৃঙ্খলা, অরাজকতার লাগাম টানতে হবে। এটা হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের সবাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ, অরাজকতা দূর করা।”

শিক্ষার মানোন্নয়ন

শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করে শিক্ষাবিদরা বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব অন্তত আঞ্চলিক মানে নিয়ে যাওয়া জরুরি। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো মানে ফেরানোও এই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “আমাদের শিক্ষার মান ভয়ানক খারাপ জায়গায় চলে গেছে। আমরা কোথাও গিয়ে কোনোভাবে স্থান পাচ্ছি না। আন্তর্জাতিক বাদ দিলাম আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও আমরা স্থান পাচ্ছি না। কোনও একটি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানের জায়গায় নেই। সিঙ্গাপুর বলেছে— বাংলাদেশের যারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়, সেসব শিক্ষার্থীদের মান তাদের হাইস্কুলের সমমানের। এক্ষেত্রে শিক্ষা মানটা কীভাবে বাড়ানো যায় সেটা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “শিক্ষায় অংশগ্রহণ প্রচুর। ক্রমাগত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার মানটা যদি না আনতে পারি তাহলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফলও আমরা পাবো না। আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। এই জায়গাতেই বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।”

শিক্ষার মান উন্নয়নে কারিকুলাম পরিমার্জন, শিক্ষক নিয়োগ ও পেশাগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর  অনুপাত পুনর্বিবেচনা এবং কার্যকর সংযোগ ঘণ্টা বৃদ্ধি, মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনা ও ধরে রাখার সুপারিশ করেন শিক্ষা গবেষদ কে এম এনামুল হক।  

অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা

অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ সব সময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশে। বর্তমানে এই অবস্থা আরও বিশৃঙ্খল। সব সময় কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “অংশীজন যারা আছেন— শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রশাসন, এই অংশীজনদের নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো করতে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা দেখছি সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়, পরীক্ষা নেওয়া হবে, নেওয়া হবে না। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তাই দেখলাম। আবারও বৃত্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনা হলো, সমাপনী পরীক্ষাও আসবে। আমাদের শিক্ষার্থী অভিভাবকদেরকে খবর রাখে? এ জায়গায় সবাই নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে নতুন সরকারের। তারেক রহমান বলেছেন সবাইকে নিয়ে তিনি এগিয়ে যাবেন। এখানে আসলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে শিক্ষাটাকে মানের জায়গায় নিতে হবে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে— ঢাকায় বসে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের বিকেন্দ্রীকরণের জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। যা ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ করে ফেলেছে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, রাতারাতি হয়ত বিকেন্দ্রীকরণ করা যাবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে যেতে হবে।”

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, “নবনির্বাচিত সরকারের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ।”

বিনিয়োগ বৃদ্ধি  

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “অর্থনীতি সম্পৃক্ত বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়াতে গেলে তো অর্থের সংস্থান করতে হবে, এটি নতুন একটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া যাবে না। বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। আর বিনিয়োগ শুধু বাড়ালেই হবে তা নয়। বিনিয়োগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর যথাযথ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে করতে হবে।”

শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয় শিক্ষায় নিয়োগ কম। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।

দুর্নীতি ঠেকানো

দুর্নীতি ঠেকানোকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, “শিক্ষা খাতে দুর্নীতি আগামী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়োগবাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্য, এমনকি ম্যানেজিং কমিটির বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য, গাইড বই বাণিজ্য, এই দুর্নীতির লাগাম টানতে না পারলে শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে। বারবার বলা হচ্ছে, দুর্নীতি কমাতে হবে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনের দুর্নীতি তো আমাদের ঘরের মধ্যে বসে আছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

বিভাজন দূর করা

সুপারিশ তুলে ধরে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “প্রশিক্ষণ ঠিকঠাক হতে হবে। শিক্ষকদের মেধাভিত্তিক পদোন্নতি হতে হবে। এনটিআরসির মাধ্যমে মাধ্যমিকে শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকে ক্যাডার ব্যবস্থাই নেই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার পুরোটাই একটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা উচিত, তার ভেতরে থাকবে বিভিন্ন বিভাগ— অধিদফতর, পরিদফতর থাকতে পারে। যেমন ভারতে আছে।”

শিক্ষাক্ষেত্রে বিভাজনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “বিভাজনের জায়গা তো শুধু রুলস অব বিজনেসের মধ্যে না, কে কী কাজ করবেন তার মধ্যেও। বিভাজনের মধ্যে এক ধরনের রেষারেষিও রয়েছে, বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। কেন আমরা চিন্তা করতে পারি না যে একজন শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত পাবলিক ফান্ডেড। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক, বিগত সময় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিকে করা হয়েছিলো। অন্তর্বর্তী সরকার ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাদ দিয়েছে। প্রাথমিক পঞ্চম শ্রেণি করা তো ভুল করা হয়েছে। এরশাদের সময় করা আইন কি এখনও চালাবো? প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত জায়গায় নেওয়া যায় তাহলে এগিয়ে চলা সম্ভব হবে।”

বৈষম্য নিরসনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহি ও বিকেন্দ্রীকরণ বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষাক্রম জটিলতা

কারিকুলাম বারবার বদল করা হচ্ছে জানতে চাইলে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “সঠিকভাবে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় বারবার পরিবর্তনে আমাদের শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ করা হচ্ছে।”

নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, “নবনির্বাচিত সরকারের কাছে প্রধান প্রত্যাশাগুলো হচ্ছে—বৈষম্য নিরসনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষার মান উন্নয়নে জোর দেওয়া এবং জবাবদিহি ও বিকেন্দ্রীকরণ। বৈষম্য নিরসনে মেয়ে শিশু, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুযোগ, বিজ্ঞান শিক্ষায় প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি, শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করা ও ডিজিটাল ডিভাইস নিরসন। সুরক্ষামূলক কার্যক্রম  উপবৃত্তির পরিমাণ ও পরিসর বৃদ্ধি, স্কুল মিল কার্যক্রম জোরদার এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।”

শিক্ষার মান উন্নয়নে কারিকুলাম পরিমার্জন, শিক্ষক নিয়োগ ও পেশাগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর  অনুপাত পুনর্বিবেচনা এবং কার্যকর সংযোগ ঘণ্টা বৃদ্ধি, মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনা ও ধরে রাখা জরুরি। কোভিডকালে ও পরবর্তীতে যে শিখন ঘাটতি হয়েছে তা নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিমার্জন করে কোচিং সেন্টার ও গাইডবই নির্ভরতা কমানো।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ও মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়নসহ শিক্ষা থেকে কর্মজগতে প্রবেশের পথ সুগম করা। পেশাগত শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় এপ্রেন্টিসশিপ কার্যক্রম জোরদার করা।  

শিক্ষায় চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কে এম এনামুল হক বলেন, “শিক্ষায় জাতীয় বাজেটের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের নেতৃত্ব, প্রধান শিক্ষকের অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়নসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা বাড়ানো। গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।”

এসব নতুন সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের অগ্রগতির প্রয়োজন মেটাতে প্রত্যাশা হিসেবেই দেখছেন কে এম এনামুল হক।

প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুর শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা, জলবায়ু পরিবর্তন সংবেদনশীল, তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর ও জেন্ডার ট্রান্সফরমেটিভ শিক্ষা কারিকুলাম, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা।

ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজের অধ্যক্ষ বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম খান বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন সব চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে, রাতারাতি উত্তরণ সম্ভব না। তবে সতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানো। সব শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোনিবেশ করানো, আর তার জন্য প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থান। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জীবনমান বৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষায় বিনিয়োগ কম থাকায় শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। এছাড়া তাৎক্ষণিক ছোটখাটো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”

ড. নজরুল ইসলাম খান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে এমপিওভুক্ত করেছে অথচ এমপিওভুক্তির কার্যক্রম বন্ধ করেছে। হয়তো আর্থিক সংকটে এটি করা হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, শিক্ষকদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে রয়েছে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা। ফলে শিক্ষায় নতুন সরকারকে শিক্ষায় বাড়তি বিনিয়োগ করতেই হবে। এটা অবশ্যই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

 

সর্বাধিক পঠিত