স্টাফ রিপোর্টার : ক্যানসারের নাম শুনলেই মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়। এই রোগ যেমন ভয়ঙ্কর, ঠিক তেমনই এর চিকিৎসাও কঠিন, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। তবে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতে, আপনার শরীরের বাত-পিত্ত-কফ—এই তিন দোষের ভারসাম্য নষ্ট হলেই ক্যানসারের মতো জটিল রোগ তৈরি হয়। আর আপনার শরীরে টক্সিন জমে যাওয়া ও হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়াই এ রোগের অন্যতম কারণ। তাই শরীরকে ভেতর থেকে শুদ্ধ করা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ভীষণ জরুরি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে— আয়ুর্বেদে কি ক্যানসার নির্মূল হয়, ঠিক তেমনটি নয়। তবে আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আয়ুর্বেদিক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে আয়ুর্বেদিক কোন ওষুধ কার্যকরী—
১. অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধাকে আয়ুর্বেদে অত্যন্ত উপকারী ভেষজ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং কেমোথেরাপির পর হওয়া দুর্বলতা ও ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করে। নিয়মিত অশ্বগন্ধা খেলে মানসিক চাপ কমে যায় এবং ঘুম ভালো হয়। গবেষকদের মতে, অশ্বগন্ধা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতেও সাহায্য করে।
২. হলুদ
আয়ুর্বেদের একটি অমূল্য উপাদান হচ্ছে— হলুদ। এতে থাকা কারকিউমিন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। হলুদ আপনার শরীরের প্রদাহ কমিয়ে দেয় এবং ফ্রি র্যাডিকেল থেকে কোষকে রক্ষা করে। নিয়মিত হলুদ সেবনে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকিও কমে যায়।
৩. তুলসী
তুলসী শুধু ধর্মীয় ভাবে নয়, ঔষধি গুণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধে সাহায্য করে থাকে। তুলসী ফুসফুস পরিষ্কার রাখে এবং মানসিক শক্তি বাড়িয়ে তোলে।
৪. কালমেঘ
স্বাদে তিক্ত হলেও কালমেঘ একটি শক্তিশালী ভেষজ। এটি লিভার পরিষ্কার করে, শরীরের টক্সিন কমায় এবং হজমশক্তি ও মেটাবলিজম উন্নত করে।
৫. গিলয়
আয়ুর্বেদে গিলয়কে অমৃত বলা হয়। এটি আপনার শরীরের টক্সিন দূর করে এবং রক্ত পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে থাকে। গিলয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং কেমোথেরাপির সময় রেডিয়েশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য, আয়ুর্বেদ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
