মাসুম বাদশাহ, মানিকগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন তিনজন।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়।
মানিকগঞ্জ-১: সাত প্রার্থীর চারজনের জামানত বাতিল
মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর–শিবালয়) আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চূড়ান্ত ফলাফলে চারজনের জামানত বাতিল হয়েছে।
এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩টি। জামানত রক্ষায় ন্যূনতম প্রয়োজন ছিল ৩৭ হাজার ৩০৮ ভোট।
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবির ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) তোজাম্মেল হক তোজা পান ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আবু বক্কর সিদ্দিক পান ৭১ হাজার ৩১০ ভোট।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল আলী, খোরশেদ আলম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন (গণঅধিকার পরিষদ) এবং মোহাম্মদ শাহজাহান খান (জনতার দল) জামানত হারিয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-২: চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের জামানত বাতিল
মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের একাংশ) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দুইজনের জামানত বাতিল হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান (ধানের শীষ) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর সালাহ উদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি) পান ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট।
অন্যদিকে সাবেক এমপি এস এম আবদুল মান্নান (জাতীয় পার্টি, লাঙল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর জামানত বাতিল হয়েছে।
মানিকগঞ্জ-৩: নয় প্রার্থীর সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত
মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর মুহাম্মদ সাঈদনূর (রিকশা) পান ৬৮ হাজার ২৮২ ভোট।
এ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা (ফুটবল), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহজাহান আলী সাজু (মোটরগাড়ি), জাতীয় পার্টির আবুল বাশার বাদশা (লাঙল), গণফোরামের একাংশের সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান কামাল (স্বতন্ত্র, সূর্যমুখী ফুল), মোয়াজ্জেম হোসেন খান (জেপি, বাইসাইকেল), রফিকুল ইসলাম খান (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত শামছুদ্দীন (হাতপাখা) জামানত হারিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে—ভোটের ব্যবধানে একতরফা চিত্র এবং অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নজির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি জেলার ভোটারদের স্পষ্ট অবস্থান ও ভোটের প্রবণতারই প্রতিফলন।
