শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
জনআস্থার কেন্দ্রে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত
daily-fulki

জনআস্থার কেন্দ্রে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত


মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে: একজন ক্লিন ইমেজ, নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী জনপ্রতিনিধির কাছে জনগণের প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি থাকে। মানিকগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এখন সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে। এলাকাবাসীর কাছে তিনি ইতোমধ্যেই “দাদা” উপাধিতে পরিচিত—যা কেবল জনপ্রিয়তার নয়, গভীর আস্থার প্রতীক।


তিনি এমন এক রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি, যার শিকড় প্রোথিত জনসেবার ঐতিহ্যে। তাঁর বাবা শামসুল ইসলাম খান (নয়া মিয়া) ছিলেন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপি সরকার আমলে শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে মানিকগঞ্জ-২ আসনে দৃশ্যমান উন্নয়নের একাধিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। রাজধানীর সঙ্গে সিংগাইরের সংযোগস্থলে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ভাষা শহীদ রফিক সেতু, ব্যাপক বিদ্যুতায়ন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে স্মরণীয়।


তবে উন্নয়নের চেয়েও বড় যে গুণ তাঁকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে দিয়েছিল, তা হলো—সুশাসন প্রতিষ্ঠা। তাঁর আমলে মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল না বলেই এলাকাবাসীর ভাষ্য। দলীয় নেতাকর্মী রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে চাইলে তিনি প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন। তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন—যা তাঁর সর্বজনগ্রাহ্যতারই বহিঃপ্রকাশ।
পিতার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত স্বল্প সময়ের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হন। রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠ ছাড়েননি; বরং সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তাঁর এই অধ্যবসায় ও সহিষ্ণুতা জনআস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিতার সুনাম ও নিজের ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস মিলিয়ে তিনি ১,৭৫,৭৭৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভোটারদের এই সমর্থন তাঁর প্রতি মানুষের আস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা—উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।


মানিকগঞ্জ-২ এর মানুষ ভাত-কাপড় বা সাময়িক সহায়তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাকে। তাদের দাবি—মাদক নির্মূল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ, ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা প্রতিরোধ এবং হাট-বাজারে চাঁদা আদায় বন্ধ করা। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম দমনে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাক্টরি, হাট-বাজার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলার মতো ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে বলেও জানা যায়। এ পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।


নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এসব ব্যক্তির সঙ্গে সুস্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


একই সঙ্গে শিক্ষক, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের রূপরেখা প্রণয়ন করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। নামসর্বস্ব পত্রিকার পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে—যা বন্ধে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


মানিকগঞ্জ-২ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পিতার গড়ে দেওয়া সুশাসনের ভিত্তি এবং নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত যদি দৃঢ়তা, সততা ও ন্যায়নীতির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তবে তিনি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নন—জনআস্থার প্রকৃত প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন। জনগণের প্রত্যাশা একটাই—উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসনের দৃশ্যমান ও বাস্তব প্রতিষ্ঠা।
লেখক: গণমাধ্যম কর্মী।
 

সর্বাধিক পঠিত