কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩১
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَكُمۡ خَشۡیَۃَ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُهُمۡ وَ اِیَّاكُمۡ ؕ اِنَّ قَتۡلَهُمۡ كَانَ خِطۡاً كَبِیۡرًا ﴿۳۱﴾
সরল অনুবাদ
(৩১) তোমাদের সন্তানদেরকে তোমরা দারিদ্র্য-ভয়ে হত্যা কোরো না, আমিই তাদের জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
সুরা বনি ইসরাঈলের এ আয়াতটিতে বলা হচ্ছে যে এই নির্দেশটি জাহেলিয়াত যুগের একটি নিপীড়নমূলক অভ্যাস সংশোধনের নিমিত্তে উল্লিখিত হয়েছে। জাহেলিয়াতের যুগে কেউ কেউ জন্মের পরপরই সন্তানদের, বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের হত্যা করত, যাতে তাদের ভরণপোষণের বোঝা বহন করতে না হয়।
এক হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটা অবশ্যই বড়; কিন্তু তারপর কী? তিনি বললেন, এবং তোমার সাথে খাবে এ ভয়ে তোমার সন্তানকে হত্যা করা।’ (বুখারি, হাদিস ৪৪৭৭)
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা তাদের এই কর্মপন্থাটি যে অত্যন্ত জঘন্য ও ভ্রান্ত তা-ই সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। অনুধাবন করতে বলেছেন যে রিজিকদানের তোমরা কে? এটা তো একান্তভাবে আল্লাহ তাআলার কাজ।
তোমাদেরকেও তো তিনিই রিজিক দিয়ে থাকেন। যিনি তোমাদের দেন, তিনিই তাদেরও দেবেন। তোমরা এ চিন্তায় কেন সন্তান হত্যার অপরাধে অপরাধী হচ্ছে?
এই নির্দেশ সুরা আনআমের ১৫১ নম্বর আয়াতেও উল্লেখ হয়েছে। ইদানীং সন্তান হত্যার এই মহাপাপ অতীব সুশৃঙ্খল নিয়মে ‘জন্মনিয়ন্ত্রণ’-এর সুন্দর নামে সারা পৃথিবীতে চলছে।
পুরুষরা ‘উত্তম শিক্ষা ও তরবিয়ত’ (বা ‘ছোট পরিবার, সুখী সংসার’)-এর নামে এবং মহিলারা তাদের দেহের ‘সুষমা’ অক্ষয় রাখার জন্য ব্যাপক হারে এই অপরাধ করে চলেছে।
