রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
মানিকগঞ্জে পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে শান্ত ও রিতা
daily-fulki

মানিকগঞ্জে পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে শান্ত ও রিতা


মাসুম বাদশাহ, মানিকগঞ্জ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। পিতার রাজনৈতিক আদর্শ, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ঐতিহ্য এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে পুঁজি করে তারা এখন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। আলাদা দুটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হলেও তাদের সক্রিয়তা পুরো জেলার নির্বাচনি পরিবেশে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।


মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর–হরিরামপুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত সাবেক মন্ত্রী ও একাধিকবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামসুল ইসলাম খান (নয়া মিয়া)-এর ছেলে। রাজনীতি, সমাজসেবা ও ক্রীড়া অঙ্গনে পরিচিত নয়া মিয়ার আদর্শেই বেড়ে ওঠা শান্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি নিজেও একসময় সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


নির্বাচনি প্রচারণায় ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, এলাকার সমস্যা শুনছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। তার ভদ্রতা, সহজ আচরণ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।


মইনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, “বাবা শুধু রাজনীতি শেখাননি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। সেই আদর্শ নিয়েই আমি রাজনীতিতে আছি।”
অন্যদিকে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর–সাটুরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা সাবেক মন্ত্রী ও একাধিকবারের সংসদ সদস্য হারুনর রশীদ খান মুন্নুর কন্যা। দেশের শিল্পখাতে মুন্নু সিরামিকের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা তার বাবার রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তরাধিকার বহন করে তিনি রাজনীতিতে নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। শিক্ষা জীবনেও তিনি ছিলেন কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের অধিকারী।


রাজনৈতিক অঙ্গনে আফরোজা খানম রিতা দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার প্রতি আস্থার জায়গাটি আরও শক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হলে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে আইনি সহায়তা, পারিবারিক ভরণপোষণ এবং সাংগঠনিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাঁড়ান—যা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত।


জেলা বিএনপি'র নেতারা জানিয়েছেন , “যে সময় সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তখন রিতা আপা আমাদের হাত ধরেছেন। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ।”


স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্ত ও রিতা দু’জনই পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজেদের ক্লিন ইমেজ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছেন। নির্বাচনি প্রচারণায় তারা সরাসরি মানুষের কথা শুনছেন, সমস্যা জানছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলছেন। এতে তরুণ ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।


যদিও তারা আলাদা দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবুও মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী এই দুই পরিবারের উত্তরসূরিদের সক্রিয় উপস্থিতি পুরো জেলার নির্বাচনি পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপির ভেতরে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন সবার নজর।


সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং পিতার আদর্শ, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জনসংযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত