ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাই উপজেলায় একটি অটো রাইস মিলে ডাকাতির ঘটনায় ট্রাকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি ট্রাকসহ লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধামরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস (ঢাকা জেলা উত্তর) মো. আরাফাতুল ইসলাম।
এরআগে গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে ধামরাই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আইঙ্গন মোড় এলাকায় মেসার্স বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিলে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ওই সময় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, মুখে মাস্ক পরিহিত আনুমানিক ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত লোহার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিলের পশ্চিম পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে।
তারা নিরাপত্তা কর্মী মো. হযরত আলী (৪৫)সহ শ্রমিকদের জোরপূর্বক হাত-পা বেঁধে পাহারায় রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা মিলের মূল গেটের তালা খুলে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করায় এবং ‘ফাতেমা জোড়া ইলিশ মার্কা’ ও ‘জোড়া আনারস মার্কা’র সর্বমোট ৬৩৩ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ২৫ কেজি) নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫০ টাকা।
এদিকে এ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধামরাই থানা পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ধামরাই থানায় ২৮ জানুয়ারি একটি মামলা (নম্বর-৪৮) করেন। মামলার তদন্তে নেমে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে অভিযান চালান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওসার সুলতান।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের গেটের সামনে মাটির রাস্তা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ছয় চাকা বিশিষ্ট ট্রাক (রেজি: ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৭৫৯৯) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান থানাধীন আমবাগান এলাকা থেকে শাহাজল (৩০) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৪টা ২০ মিনিট ও ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী ও বাসন থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. ফারুক মিয়া (৪১), মো. ফরহাদ মিয়া (৪৫) এবং মো. আলমগীর মিয়া (৩০)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শাহাজলের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় দুটি, আলমগীরের বিরুদ্ধে তিনটি ও ফারুকের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মোট ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
