স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে পরিত্যক্ত ম্যানহোলে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারী) বিকালে প্রচুর পরিমাণ সরকারি ওষুধের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ওষুধের বেশিরভাগই প্যাকেট খোলা হয়নি।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারী) ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদ আল হাসান।
এদিন সকালে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতাল ভবনের পাশে বর্জ্য রাখার ঘরে পরিত্যক্ত ম্যানহোলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পড়ে আছে;। তবে ওষুধ ফেলার আগে না পড়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তা জানা যায়নি। এসব বিষয় হাসপাতালের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ সরকারি ওষুধ পান না। ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের লেখা ওষুধ বাজার থেকে কিনে নিতে বলা হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ ফেলে দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে অনেকেই বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ঠিকমতো ওষুধ দেয় না। তাহলে এত ওষুধ ফেলে দেওয়ার রহস্য কী?
বিভিন্ন সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করে হাসিনা বেগম বলেন, কোনদিনও তাকে সরকারি ওষুধ ঠিকমত দেওয়া হয়নি। বেশিরভাগ বাহিরের দোকান থেকে কিনতে হয়েছে। আর এখন হাসপাতালের ম্যানহোলে ওষুধ পাওয়া যায়!
ম্যানহোলে সরকারি ওষুধ পাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের দায়িত্বে থাকা স্টোর কিপার নুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অথচ স্টোর থেকে কোনো ওষুধ বাহিরে নিতে হলে তার অনুমতি ছাড়া বের হয় না।
তবে স্টোর কিপার নুরুল ইসলাম এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদ আল হাসানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদ আল হাসান বলেন, ম্যানহোলে ওষুধের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে আমি নিজেও বিব্রত। এ ওষুধ ম্যানহোলে থাকার কথা না। যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থাকে তাহলে এগুলো একটা সিস্টেমের মাধ্যমে ফেলতে হয়। আর ওষুধের দায়িত্বে থাকে স্টোর কিপার।
“তবে কারা কীভাবে ওষুধগুলো এখানে ফেলেছে, তা জানার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি।
তবে কমিটির সদস্যদের নাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করবেন না বলে জানিয়েছেন এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
