সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মামুনুর রশীদের পক্ষে কাজ করায় দলটির ৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৪ নেতা এবং কানাইঘাট উপজেলার ৫ নেতা আছেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সব আসনের সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকাল বিকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বিএনপির নেতাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমদ, সদস্য রিপন আহমদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ রয়েছেন।
কানাইঘাট উপজেলায় বহিষ্কৃত নেতারা হলেন- উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়েছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ, কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশার, লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন নিমার।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, সিলেট-৫ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেয়নি। এখানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। দলের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এরপর বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে সহযোগিতা না করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় জকিগঞ্জের চার জন এবং কানাইঘাটের পাঁচ জন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপিকে অনুরোধ জানান সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক। ওই অনুরোধপত্রে স্বাক্ষর দিয়ে সুপারিশ করেন সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
আরিফুল হক চৌধুরী নিজের স্বাক্ষরিত সুপারিশে জানিয়েছেন, সিলেট-৫ আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তার নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৪ আসনে বেশ ক্ষতি হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতির আসনে কিছু বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সিলেট-৪ আসনের জমিয়ত নেতারা ক্ষুব্ধ। তারা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। এ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
