স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে রাজাসন-বিরুলিয়া আঞ্চলিক সড়কের কালিয়াকৈর এলাকায় কয়েকদিন আগে গাছ ফেলে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ও ভয় ছড়ানোর ঘটনার সূত্র ধরেই পুলিশের নজর পৌঁছায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত ও মাদক সিন্ডিকেটেরদিকে। এ ডাকাত দলের মূল মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন মোঃ শাহ আলী ওরফে রাকিব। তাকেসহ ৯জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ভোর রাতে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টহল দল বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকার গোল্ডস্টার গার্মেন্টস সংলগ্ন বাঁশঝাড়ে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-সাভার পৌরসভার রাজাশন গ্যারেজ এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মোঃ সানি মিয়া (৩৫), সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া (৩২), একই এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে মোঃ রিপন মিয়া (৩৩), হানিফ মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা (৩১), সামাইর এলাকার চান মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (৩১), সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি উত্তরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে সোহাবান মিয়া (২৩), একই ইউনিয়নের পূর্বহাটি এলাকার আবু মিয়ার ছেলে নুর নবী (২৭) ও হেমায়েতপুরের উত্তর মেইটকা এলাকার হাছনের ছেলে ইমন মিয়া (২৫)। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, দীর্ঘদিন ধরে তারা পরস্পর যোগসাজশে এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিল এবং এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ও নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন মোঃ শাহ আলী ওরফে রাকিব (৩৮)। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে
গ্রেপ্তারকৃতদের দেহ তল্লাশিতে উদ্ধার হয় দুটি ধারালো লোহার দা, একটি লোহার ছুরি, একটি স্টিলের চাইনিজ কুড়াল ও তিনটি সুইচ গিয়ার চাকুসহ মোট সাতটি দেশীয় অস্ত্র। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান আরও জোরদার করে পুলিশ এবং শুক্রবার দিবাগত (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটারদিকে সাভার পৌরসভার শাহীবাগ এলাকা থেকে শাহ আলী ওরফে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোঃ শাহ আলী ওরফে রাকিব মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার ওয়াইল গ্রামের তোতা মিয়া ওরফে পাখি কবিরাজের ছেলে। সেই গ্রামের আলোচিত বাচ্চু ডাকাত তার আপন চাচা, বাচ্চু ডাকাত গণপিটুনিতে নিহত হয়।
পুলিশ জানায়, শাহ আলী ওরফে রাকিবের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ চৌরাস্তা থেকে বড় একটি মাদক চালানসহ রিমি নামের এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় রিমির সঙ্গে থাকা এই শাহ আলী ওরফে রাকিব। ওই মামলায় রিমির স্বীকারোক্তিতেও রাকিবের নাম উঠে আসে। পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারি ও সমন্বিত অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে ডাকাতি ও মাদক কারবার চালানোর মাস্টারমাইন্ড শাহ আলী ওরফে রাকিব অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পরল।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “গাছ ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছি। ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুরো এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে ৮ জন গ্রেপ্তার এবং তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মূল হোতা শাহ আলী ওরফে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান, যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের লক্ষ্য-নিয়ম-শৃঙ্খলা, আইন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
