ধামরাই প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে উত্তাপ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ১১ দলীয় জোটের সমর্থন দাবি করা দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় থাকায় জোটে বিভক্তির রেখা সুষ্পস্ট। ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত একাধিক প্রার্থী না দেওয়ার কথা থাকলেও এ আসনে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। একই জোটের ব্যানারে দুজনই প্রচারে সরব। দুজনেই দাবি করছেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী তারা। দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় এ আসনজুড়ে ভোটারদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন আসলে ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী কে?
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটগত সমঝোতায় এ আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদকে জন্য ছেড়ে দেওয়া হলে আগে থেকে প্রচারণায় থাকা জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুর রউফ জোটের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শেষদিন তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু খেলাফত মজলিস ধামরাই উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি আশরাফ আলী ১১ দলীয় জোটের পক্ষের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা করছেন।
এমনকি তিনি পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং, উঠান বৈঠকসহ সব জায়গাতেই খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় জোটের (উন্মুক্ত) পক্ষে সংসদ সদস্য প্রার্থী উল্লেখ করায় ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি। স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। গত ২২ ও ২৯ জানুয়ারী ধামরাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষের প্রার্থী প্রচারণা করায় মুফতি আশরাফ আলী নতুনভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তাপসহ বিভক্তি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পাটির্র (এনসিপি) ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদকে সাথে নিয়ে দিনরাত নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য আবদুর রউফসহ ধামরাই উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী-সমর্থক।
আব্দুর রউফ অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে খেলাফত মজলিসের আশরাফ আলী জামায়াতের ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করের্ছিলেন। এবারের সংসদ নির্বাচনেও ১১ দলের জোটের প্রাথী না হয়েও ১১ দলের জোটের পরিচয় দিয়ে ভোটারদের সাথে প্রতারণা করছেন তিনি।
তবে আশরাফ আলী বলেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খেলাফত মজলিসের মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষের নয় সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন তিনি। আমরা (আশরাফ আলী ও নাবিলা তাসনিদ) দুজনেই আগে ছিল ১০ দল এখন ১১ দলের প্রার্থী।
এখানে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের তিন বারের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিনসহ ছয়জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, এনসিপি, জাসদ, এবি পার্টির প্রার্থী রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী ব্যাপক গণসংযোগ করে চলছেন। সাধারণ ভোটারদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন বিপুলভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।
এ আসনটি ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এতে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯জন। ভোটাররা ১৪৭টি কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন।
