বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
MENU
#
খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো
daily-fulki

খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো


স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।

গত বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই বিস্তারিত প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া প্রস্তাবের ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণখেলাপিরা যেন আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বিদেশ যেতে না পারেন; ঋণখেলাপিরা যাতে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, এমন প্রস্তাব রয়েছে।


খেলাপি ঋণ কমাতে এবিবির তিন প্রস্তাবনা
১. আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিচারে খেলাপি ঋণগুলো আংশিক অবলোপনের সুবিধা প্রদান।

২. লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

৩. মৃত্যু, মরণব্যাধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ঋণ, গৃহ ঋণ, ক্রেডিট কার্ড কিংবা তার একক মালিকানাধীন কুটির, ক্ষুদ্র এবং ছোট প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে হেড অব আইসিসির মতামত গ্রহণের শর্ত লাঘব করা।

নগদ অর্থ আদায়ে যেসব প্রস্তাব
১. খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংক অথবা আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

২. ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম, ছবিসহ তালিকা প্রকাশের অনুমোদন প্রদান।

৩. খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের যেকোনো ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুপযোগী ঘোষণা প্রদান।

খেলাপি ঋণের বন্ধকী সম্পদ বিক্রিতে যেসব প্রস্তাব
১. ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরের সব ধরনের আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা।

২. নিলামে সম্পদ কেনা উৎসাহিত করতে নিলাম ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত কিংবা অন্যান্য প্রণোদনা প্রদান।


৩. স্থানভেদে নিলামে বিক্রিত সম্পদ কেনায় জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা।

৪. নিলামে বিক্রিত সম্পদের হস্তান্তরে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

৫. নিলামে বিক্রয়ের সুবিধার্থে, বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে ব্যাংককর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্ন করার সব সুবিধা নিশ্চিত করা।

৬. আদালতকর্তৃক ব্যাংকের নামে মালিকানা হস্তান্তর করা জমির (অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৩(৭) ধারা মোতাবেক) নামজারি, বায়নানামার ভিত্তিতে বিনা খরচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা।

মামলার রায় কার্যকরে যেসব প্রস্তাব
১. খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের জামানতদাতাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত আমানত, সঞ্চয়পত্রের তথ্য, মালিকানাধীন সম্পদের তথ্য, আয়কর রিটার্নের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ, জন্মসনদ, মৃত্যুসনদ, পাসপোর্টের তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিত করা।

২. ব্যাংকের বা আদালতের যেকোনো পদক্ষেপের বিপরীতে আদালতে গমনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট জমা প্রদানের শর্ত আরোপ করা।

৩. সিআইবি প্রতিবেদনের বিপরীতে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্টে-অর্ডার প্রাপ্তির সুবিধা আইনগতভাবে রহিত করা।

৪. উচ্চ আদালত থেকে প্রদত্ত স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে অর্থ প্রদানের শর্ত নিশ্চিত করা এবং উক্ত নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে আদালতের হস্তক্ষেপ ব্যতিত উক্ত স্টে-অর্ডার বাতিল হিসেবে বিবেচনা করা।

৫. উচ্চ আদালত কর্তৃক স্টে-অর্ডার প্রদানের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করা।

৬. যেসব জেলায় খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা বেশি, সেসব জেলায় অবিলম্বে পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপন।

৭. থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশগুলো জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা।

৮. আদালত থেকে থানায় সাত দিনের মধ্যে আটকাদেশ প্রেরণ নিশ্চিত করা।

৯. অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ রহিত করা।

১০. অর্থঋণ মামলায় দেওয়ানি আটকাদেশের পরিমাণ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ ভেদে সাত বছরে উন্নীত করা।

১১. স্বল্পতম সময়ে অর্থঋণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন।

খেলাপি ঋণ না বাড়াতে যেসব প্রস্তাব
১. জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা প্রকাশ।

২. নিবন্ধক কিংবা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাই করার সুবিধা নিশ্চিত করা।

৩. সিআইবি ডেটাবেজের ন্যায় ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেজ প্রণয়ন এবং সহজে তা যাচাইকরণের সুবিধা প্রদান।

দেশে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের দুই-তৃতীয়াংশ খেলাপি ঋণ। প্রতি মাসেই খেলাপি ঋণ বাড়ছে। সর্বশেষ খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময় মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা জানান, খেলাপি ঋণের এই পাগলা ঘোড়াকে থামাতে প্রস্তাবনাগুলো খুবই কাজে লাগবে। তা না হলে খেলাপিরা এবারই ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে যাবেন। 

সর্বাধিক পঠিত