স্টাফ রিপোর্টার : ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে ঘিরে জনআস্থা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি দ্বৈত দায়িত্ব নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে। একদিকে ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষা, অন্যদিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এবার নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে বাহিনীটি একাধিক নতুনত্ব ও সময়োপযোগী পরিবর্তন যুক্ত করেছে। নির্বাচনি নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন পরিকল্পনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিস্তৃত ও লক্ষ্যভিত্তিক। দেশজুড়ে ৪৮৯টি উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় একক স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তারা।
এই দায়িত্ব পালনে বিজিবি তার সবচেয়ে বড় শক্তিকে সামনে আনছে— ভূ-খণ্ডভিত্তিক দক্ষতা। পাহাড়, বন, চর ও নদীবেষ্টিত এলাকায় দীর্ঘদিনের অভিযানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নৌযান, মোটরসাইকেল ও অল টেরেইন ভেহিকেল ব্যবহার করে প্রত্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। লক্ষ্য একটাই— ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা।
নির্বাচনি প্রস্তুতির অন্যতম নতুন দিক হলো প্রশিক্ষণ কাঠামোর রূপান্তর। ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ ধাপে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স, মূল প্রশিক্ষণ, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি অনুকরণে সিচুয়েশনাল এক্সারসাইজের মাধ্যমে প্রতিটি সদস্যকে নির্বাচনি দায়িত্বের জন্য মানসিক ও পেশাগতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা প্রশমন, বলপ্রয়োগের আইনগত সীমা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যৌথ অভিযান এবং সদস্যদের আত্মসুরক্ষা—সবকিছুই প্রশিক্ষণের মূল অংশ।
প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও নতুনত্ব এনেছে বিজিবি। দূরবর্তী বিওপিতে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য হাইব্রিড প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনলাইন ক্লাস, অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট এবং মোবাইল ট্রেনিং টিম সরাসরি বিওপিতে গিয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি না রেখেই সারাদেশে অভিন্ন মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারে। ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে বিজিবির জন্য এমন একটি নির্বাচন, যেখানে প্রথমবারের জন্য নন লেথাল অস্ত্র বিজিবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাবার কার্টিজসহ ১২ গেজ শটগান এবং সাউন্ড ও স্মোক গ্রেনেড যুক্ত করা হয়েছে রায়ট কন্ট্রোল সরঞ্জামের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চরম বিপর্যয়কালীন সময়ও বেসামরিক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি, বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম রেকর্ড এবং আধুনিক ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি শুধু নজরদারি নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
