স্টাফ রিপোর্টার : শীতকাল ও ঋতু পরিবর্তনের সময় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ সময় সর্দি, কাশি, ফ্লু ও শ্বাসতন্ত্রজনিত সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই প্রাকৃতিক উপায় ও ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর বেশি ভরসা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আলোচনায় এসেছে কাঁচা হলুদ-আমলকী শট।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা হলুদ ও আমলকী দিয়ে তৈরি এই শট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। একই সঙ্গে এটি শ্বাসতন্ত্রের নানা সমস্যাতেও উপকারি ভূমিকা রাখতে পারে। ‘অ্যাডভান্সেস ইন এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজি’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, হলুদ ও আমলকীতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শীতকাল ও ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে সাহায্য করে।
ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় আমলকীকে ‘শীতের সুপারফ্রুট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হলুদকে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক পুনরুজ্জীবক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে কার্যকর।
কীভাবে কাজ করে হলুদ-আমলকী শট?
আয়ুর্বেদে হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হলুদের প্রধান উপাদান ‘কারকিউমিন’, যা প্রদাহ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর। অন্যদিকে, আমলকী ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দুই উপাদান একসঙ্গে শরীরকে মৌসুমি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বীকৃতি
‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ’-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় হলুদ ও আমলকীকে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম মডুলেটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ’ জানিয়েছে, ভারতে ঐতিহ্যগতভাবে সর্দি, বাত ও বিভিন্ন সংক্রমণ চিকিৎসায় হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে।
তুলনামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদ ও আমলকী সমন্বিত হারবাল শট একক উপাদানের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশি কার্যকর।
কাঁচা হলুদ-আমলকী শট তৈরির পদ্ধতি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ মিলিলিটার শট গ্রহণ করাই নিরাপদ। শীতকাল বা ঋতু পরিবর্তনের সময় দিনে একবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
সতর্কতা ও ঝুঁকি
এই শট উপকারী হলেও অতিরিক্ত সেবনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে হলুদ সেবনে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, কাঁচা হলুদ-আমলকী শট একটি সময়-পরীক্ষিত প্রাকৃতিক প্রতিকার। শীত ও ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি, ফ্লু ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে সঠিক মাত্রা ও চিকিৎসা পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
