স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন সর্বোচ্চ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারবে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ব্যয় করতে পারবে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৮ আসনে (পাবনা-১ ও ২ পরে যোগ হবে) সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে বিএনপির ২৮৮ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ প্রার্থী নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এখন ২২৪ জন।
এই দলগুলো সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারবে। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ১৯২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় দলটি ব্যয় করতে পারবে তিন কোটি টাকা।
অন্যদিকে গণঅধিবার পরিষদের প্রার্থী ৯০ জন হওয়ার ব্যয় করতে পারবে দেড় কোটি টাকা। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (৩২ জন প্রার্থী) যেসব দলের প্রার্থী ৫০-এর বেশি নয়, সেই সব দল সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে।
আইনে কী আছে
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) প্রার্থী ও দলের ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীর ব্যয় ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা করে ধরা হয়েছে। তবে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ায় কোনো আসনে ১০ টাকা ভোটার প্রতি ধরে ২৫ লাখ টাকার কম হলে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা ২৫ লাখ টাকাই ব্যয় করতে পারবেন। দল ও প্রার্থীকে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যয় পরিচালনা করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে আরপিওতে বলা হয়েছে, কোনো দল যেসব নির্বাচনী এলাকায় তার প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেই সব এলাকায় নির্বাচন সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য সব আয় ও ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করবে এবং এই হিসাবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে দান হিসাবে প্রাপ্ত পাঁচ হাজার টাকার অধিক পরিমাণ অর্থ, তাদের নাম-ঠিকানা এবং প্রত্যেকের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং প্রাপ্তির ধরন উল্লেখ করে সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে এবং রাজনৈতিক দল দান হিসাবে প্রাপ্ত অর্থের বিস্তারিত তালিকা স্বচ্ছতার সঙ্গে দলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করবে।
কোনো দলের প্রার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক হলে চার কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা; প্রার্থীর সংখ্যা এক শতাধিক তবে দুই শতের বেশি না হলে তিন কোটি টাকা; প্রার্থীর সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি তবে এক শতের বেশি না হলে এক কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা; প্রার্থীর সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি না হলে পঁচাত্তর লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে। প্রার্থী প্রতি কোনো দল সর্বোচ্চ এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবে। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের জন্য দলীয় প্রধানের ব্যয় দলের ব্যয়সীমার বাইরে থাকবে। কোনো দল ৫ হাজার টাকার বেশি কোনো দান, চেক ব্যতীত গ্রহণ করতে পারবে না।
যদি কোনো রাজনৈতিক দল এই অনুচ্ছেদের কোনো বিধান লঙ্ঘন করে তবে অনধিক দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আরপিওতে আরও বলা হয়েছে, ভোটে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল সকল নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে ব্যয়ের নিরীক্ষা জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে যে সকল নির্বাচনী এলাকায় দলের প্রার্থী ছিল, সেই সকল এলাকার নির্বাচন সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যয় বা অনুমোদিত সকল ব্যয়ের বিস্তারিত বর্ণনা করে একটি ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া ব্যয় বিবরণীতে দলের ঘোষণাপত্র, নীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাধারণ প্রচারণার জন্য কৃত ব্যয় এবং প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বা অনুমোদিত ব্যয় পৃথকভাবে সন্নিবেশ করতে হবে।
তফসিল হওয়ার তারিখে দলের তহবিলের প্রারম্ভিক স্থিতি, সকল নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন সমাপ্ত হওয়া তারিখে তহবিলের সর্বশেষ স্থিতি এবং ওই দুই তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে দান হিসাবে বা অন্য কোনোভাবে দল কর্তৃক প্রাপ্ত মোট অর্থের হিসাব প্রদর্শন করে দলের সম্পাদক কর্তৃক প্রত্যয়িত বিবরণীও দাখিল করতে হবে।
কোনো দল নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ব্যয় বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে কমিশন সতর্ককীরণ নোটিশ পাঠিয়ে আরও ৩০ দিন সময় দিতে পারবে। এই সময়ের মধ্যেও বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে আরও ১৫দিন সময় বাড়াতে পারবে কমিশন। এই সময়ের মধ্যেও কোনো দল ভোটের ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে ইসি।
প্রার্থী ও দলের ব্যয় বিবরণী রিটার্নিং কর্মকর্তা এক বছর পর্যন্ত নির্ধারিত ফি প্রদানের ভিত্তিতে যে কোনো ব্যক্তি অনুলিপি দেবেন। নির্বাচন কমিশনও ওয়েবসাইটে ব্যয় বিবরণীয় প্রকাশ করবে।
এদিকে কোনো প্রার্থী আইনে নির্ধারিত ব্যয়সীমার ব্যত্যয় করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জেল-জরিমানা করা হতে পারে। আরপিওর ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যয়সীমার বিধান না মানলে বা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে তা বে-আইনিকার্যের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। এজন্য ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। প্রার্থীকে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তার ব্যয়ের বিবরণী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
কোন দলের কত প্রার্থী
গত ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৮ আসনে (পাবনা-১ ও ২ আসনে আইনি জটিলতায় প্রার্থী চূড়ান্তে বিলম্ব হচ্ছে) সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে বিএনপির ধানের শীষের ২৮৮ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ২২৪ জন। জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন আর এনসিপির ৩২ জন ভোটে রয়েছে। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ২৪৯ জন।
অন্য দলগুলোর মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি’র প্রার্থী ১২ জন, জাতীয় পার্টি-জেপির ১০ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ৬৫ জন, গণতন্ত্রী পার্টির ১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের ৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ২৬ জন, জাকের পার্টির ৭ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির ৫ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৮ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১৩ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির ২৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ৪ জন, গণফোরামের ১৯ জন, গণফ্রন্টের ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপের ১ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৩ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেমের ১৯ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ২ জন, ইসলামী ঐক্যজোটের ২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২৬ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার ১ জন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জন, খেলাফত মজলিসের ২১ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল-এর ৬ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)-এর ২০ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ-এর ৮ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম-এর ৮ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১৮ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেমের ৪২ জন, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের ১১ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ১৯ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পাটি) ৩০ জন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৯০ জন, নাগরিক ঐক্যের ১১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) ৮ জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১৫ জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ১২ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ২৯ জন, জনতার দল- ১৯ জন, আমজনতার দল ১৫ জন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ১ জন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ৩ জন প্রার্থী রয়েছে। দলগুলোকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংখ্যা অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে।
এদিকে নিবন্ধিত দলের মধ্যে প্রার্থী দেয়নি বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাদ পড়েছে দলটি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এবার ৩৪১৭ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২৫৮০ জন। বাছাইয়ে ১৮৫৫ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়, বাতিল হয় ৭২৫ জনের মনোনয়নপত্র। এদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন ৬৪৫ জন। আপিলে প্রার্থিতা ফেরত পান ৪৩৬ জন আর ৫ জন বৈধ প্রার্থী বাদ পড়েন। ২০ জানুয়ারির মধ্যে ৩০৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ১৯৮১ জন। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের প্রার্থী যোগ হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে রায় দেবেন।
হেভিওয়েটরা কত ব্যয় করতে পারবেন
আরপিও অনুযায়ী, প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ভোটার প্রতি ১০ টাকা। আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভোটার গাজীপুর-২ আসনে। আট লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটারের এ আসনে মাথাপিছু ১০ টাকা করে ব্যয় হলে ব্যয় করা যাবে ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা। ভোটারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা-১৯ আসন। সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটারের এই আসনে একই হারে ব্যয়সীমা দাঁড়ায় ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-১ আসনে। সাত লাখ ২০ হাজার ৯৩৯ জন ভোটারের এই আসনে কোনো প্রার্থী সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারবেন ৭২ লাখ ৯ হাজার ৩৯০ টাকা। ভোটারের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা নোয়খালী-৪ আসনের প্রার্থীরা ৭০ লাখ ৩ হাজার ৩ হাজার ৩৯০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩১ জন। এই আসনে ১০ টাকা হিসেবে ব্যয় দাঁড়াবে ২২ লাখ ২৮ হাজার ৩১০ টাকা। তবে আইনে সর্বনিম্ন ব্যয় ২৫ লাখ টাকা হওয়ায় এই আসনের প্রার্থীরা ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন ভোটারের জন্য ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ টাকা ও বগুড়া-৬ আসনে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ ভোটারের জন্য ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৩০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ ভোটারের জন্য ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ ভোটারের জন্য ব্যয় করতে পারবেন ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৮০ টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন ভোটারের জন্য ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। ঠাকুরগাও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন ভোটারের জন্য ব্যয় করতে পারবেন ৫১ লাখ ১৬ হাজার ২৯০ টাকা। বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসনে ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন ভোটারের জন্য ৫০ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনে ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন ভোটারের জন্য ব্যয় করতে পারবেন ৪১ লাখ ৫ হাজার ৫৯০ টাকা। এদিকে এনসিপির নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী ও বিএনপির মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন ভোটারের জন্য ২৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানউল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, আগের আইনটি সংশোধন করে ২৫ লাখ টাকা বা ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে যে অংক বড় হবে, সেই পরিমাণ অর্থই সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা ব্যয় করতে পারবেন, এমন বিধান আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো আসনে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে যদি মাথাপিছু ১০ টাকা হারে ২৫ লাখ টাকার কম হয়, তবে ওই আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ অংক হিসেবে ২৫ লাখ টাকাই ব্যয় করতে পারবেন। আগের আইনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। দলগুলো তাদের প্রার্থী সংখ্যা অনুসারে সর্বনিম্ন ৭৫ লাখ টাকা থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে।
