শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
MENU
#
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে কতটা আর্থিক ক্ষতি হবে বিসিবির?
daily-fulki

বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে কতটা আর্থিক ক্ষতি হবে বিসিবির?


স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এদিকে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা হলেও ম্যাচ ভেন্যু বদলের সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বকাপ শুরুর আর দুই সপ্তাহ বাকি থাকায় সূচিতে বড় পরিবর্তন এখন কার্যত সম্ভব নয় বলেই তাদের অবস্থান।

বাংলাদেশ অংশ না নিলে বড় প্রভাব পড়তে পারে আর্থিক দিক থেকে।


আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টগুলো ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেললে বিসিবি, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের জন্য অংশগ্রহণ বাবদ প্রায় চার কোটি টাকা পাওয়া যেত বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, যা ডলারের হিসাবে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার।
টুর্নামেন্টে ভালো করলে প্রাপ্য বাড়ে আরও। সেরা ১২ দলের মধ্যে থাকতে পারলে কোনো দলের আয় হতে পারে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি টাকা, ডলারে যা আনুমানিক ৪ লাখ ৫০ হাজার।

বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে খেলোয়াড়দের ওপর। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানির সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হবেন। এতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

বিসিবির ক্ষতিও কম নয়।


আইসিসি থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ ডলার অংশগ্রহণ ফি পাওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ না খেললে সেই অর্থও পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশি টাকায় এই অঙ্ক প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকা, যা বোর্ডের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতি।
বাংলাদেশের ম্যাচ না থাকলে সম্প্রচার ও স্পন্সরশিপ আয়েও ধাক্কার আশঙ্কা আছে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচ সাধারণত ভালো দর্শক টানে।

ম্যাচ কমে গেলে টিআরপি কমার আশঙ্কা থাকায় বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহও কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকারদের অনেকেও বলছেন, এতে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যও কমে যেতে পারে।
আয়-ক্ষতির ছবিটা বোঝা যায় ম্যাচ ফি থেকেও। একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার সর্বনিম্ন আড়াই লাখ টাকা করে পান।

এর আগে ২০২৪ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির অঙ্ক ছিল আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রানার্সআপ দল পেয়েছিল অন্তত ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সেমিফাইনালে বাদ পড়া দুই দল পেয়েছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার করে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে না পারা দলগুলো পেয়েছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ ডলার। নবম থেকে দ্বাদশ স্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার করে, আর ত্রয়োদশ থেকে বিংশ অবস্থানে থাকা দলগুলো পেয়েছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে।

এছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাদে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো অতিরিক্ত ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার করে পেয়েছিল। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে মাঠের বাইরের এই আর্থিক হিসাবও সামনে চলে আসবে।

সর্বাধিক পঠিত